সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও মৎস্য দপ্তরের সচিব, আকস্মিক বন্যায় মৎস্য দপ্তরের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৪৪২ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক,২৫ আগস্ট,২০২৪: রাজ্যে গত ১৯-২২ আগস্ট অবিরাম বৃষ্টির ফলে আকস্মিক বন্যায় প্রাথমিক রিপোর্টে মৎস্য দপ্তরের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা৷ তাছাড়া প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের প্রাথমিক রিপোর্টে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৩.৫০ কোটি টাকা। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ ও মৎস্য দপ্তরের সচিব দীপা ডি নায়ার এ সংবাদ জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে সচিব জানান, বন্যায় মৎস্য দপ্তরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের প্রাথমিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ক্ষয়ক্ষতির যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে ১৬,৩১২ হেক্টর মৎস্যচাষের জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়াও ৫৪,৪৮৩.৬০ মেট্রিকটন মাছ এবং ১৯৯৪.১০ লক্ষ মাছের পোনার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের সহায়তায় ৪টি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে।

এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ তহবিল ছাড়াও মৎস্য দপ্তরের প্রকল্পের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হবে৷ তাছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীগণ ক্ষেত্র পর্যায়ে পরিদর্শণ করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের কাজ করছেন৷ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব জানান, তাৎক্ষনিক সহায়তা হিসেবে প্রাণীপালকদের মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনায় সহায়তা দেওয়া হবে৷

আকস্মিক বন্যায় রাজ্যে প্রাণীসম্পদের জন্য ১৪৮টি ত্রাণ শিবির চালু রয়েছে। বন্যার ফলে প্রাণীদের জন্য ২২.১ টন প্রাণী খাদ্য এবং ৩.৫ টন সবুজ ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে৷ তাছাড়াও এখন পর্যন্ত ১৩৬টি প্রাণী চিকিৎসা শিবির করা হয়েছে। এই চিকিৎসা শিবিরগুলিতে ৫,৯৫১ গবাদি প্রাণী ও ৪,৭২৯টি পাখির চিকিৎসা হয়েছে। সচিব জানান, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর বন্যা পরবর্তী ব্যাবস্থাপনার জন্য ইতিমধ্যেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে।

দ্রুত রোগ নিরূপনের জন্য তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সচিব জানান, মিশন মোডে প্রাণী চিকিৎসা শিবির, ভেকসিনেশন শিবির ও সচেতনতা শিবির করা হবে। তাছাড়াও পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রাণী ও পাখীদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যে ব্যবস্থা করা হবে।

Recent Posts

মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, মহারাজার দূরদর্শী চিন্তা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উন্নয়ন ভাবনার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আধুনিক ত্রিপুরার ভিত গড়ে উঠেছিল