অনলাইন ডেস্ক, 28 অগাস্ট 2024: ভয়াবহ বন্যায় যতনবাড়ী গোমতী নদীতে অবস্থিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ইনটেক ওয়েল জলের তলে চলে গেছে। যার ফলে বহু মূল্যবান দুটি বৈদ্যুতিক মোটর সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম টানা চার দিন যাবত জলে ডুবে ছিল। বর্তমানে জলস্তর কিছুটা কমে আসলেও যন্ত্রাংশ গুলির উপর পড়ে আছে মোটা পলিমাটির আস্তরণ।
যদিও মঙ্গলবার থেকে ইনটেক ওয়েলের ভেতরে পলিমাটির আস্তরণ পরিষ্কার করার কাজে হাত লাগায় করবুক মহকুমার ডি ডব্লুউ এস দপ্তর। তবে জলের নিচে ডুবে থাকায় মোটর সহ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম গুলি খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডি ডব্লুউ এস দপ্তরের করবুক মহকুমার এসডিও নিরেন জয় ত্রিপুরা জানান, ইতিমধ্যে দুটি মোটর ও স্টার্টার খোলা হয়েছে।
এগুলির ভেতরের জল শুকিয়ে আসলে পরীক্ষা করে দেখা যাবে এগুলি দিয়ে কাজ চালানো যাবে কিনা। নয়তোবা মোটর স্টার্টার সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরিবর্তন করতে লাগবে। এদিকে ইনটেক ওয়ালের নিচে থাকা পাম্প মেশিনটি এখনো জলে ডুবে আছে। গোমতী নদীর জল আরো তিন ফুট নিচে নামলেই ওই পাম্প মেশিনটি চালু করা সম্ভব হবে।
পাম্প মেশিনের চারিদিকেও প্রচুর পলিমাটি জমে আছে। তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যানটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান ডিডাব্লিউএস দপ্তরের এসডিও নিরেঞ্জয় ত্রিপুরা। এদিকে এলাকায় পানীয় জল সরবরাহকারী ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যানটি দীর্ঘ এক সপ্তাহের অধিক সময় যাবত বিকল হয়ে থাকায় নতুন বাজার যতনবাড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলের তীব্র হাহাকার সৃষ্টি হয়েছে।
মানুষের জলের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিনিয়ত ১৫ টি গাড়ির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় জল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান এস ডি ও নিরেঞ্জয় ত্রিপুরা। যার মধ্যে দুটি গাড়ি চেলাগাঙ এলাকায়, একটি গাড়িতে করে উত্তর একছড়ি এলাকায়, বাদবাকি ১২ টি গাড়ি নূতন বাজার – যতনবাড়ি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল সরবরাহের কাজ করছে।
তবে যে পরিমাণ জল সরবরাহ করা হচ্ছে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। দিন যত অতিবাহিত হচ্ছে ততই জলের জন্য মানুষের হাহাকার তীব্রতর হয়ে উঠছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব ১.২ মেট্রিক গ্যালন ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জল সরবরাহ স্বাভাবিক করে তোলার দাবি উঠছে।









