কৈলাসহর ইন্দো-বাংলা সীমান্তে সীমান্তে একটি হাতি উদ্ধার, মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েন

অনলাইন ডেস্ক, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: কৈলাসহর ইন্দো-বাংলা সীমান্তে সীমান্তে একটি হাতি উদ্ধার। হাতির মালিকানা নিয়ে টানাপোড়েন। বনদপ্তরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাটাতারের পাশে এক হাতি উদ্ধারের পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে। সীমান্তে একটি হাতি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৈলাসহরে।

উল্লেখ্য, কৈলাসহরে ছাগলডেমা এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে এক হাতির তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন গ্রামের মানুষ। ছাগলডেমা গ্রামের রাবার বাগান সহ বিভিন্ন সব্জি ফসল নষ্ট করেছে হাতিটি। গ্রামবাসীরা পরের দিন তথা ১২ সেপ্টেম্বর সকালে কৈলাসহর মহকুমা বন দপ্তরের অফিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে বন দপ্তরের কর্মীরা গিয়ে হাতিটিকে ছগলডেমা থেকে রাংরুং গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয় বন দপ্তরের পক্ষ থেকে।

হাতি উদ্ধারের ঘটনা চাউর হতেই আসরে নামে কৈলাসহরের বেশ কয়েকজন হাতির মালিক। তারা যে যার মতো করে হাতিটি নিজের বলে দাবও করতে থাকেন এবং হাতিটি বন দপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়াট চেষ্টা করে। প্রাথমিকভাবে বন দপ্তরের এক আধিকারিক হাতিটিকে কৈলাসহরের এক ব্যবসায়ীর হাতে তোলে দিতে রাজি হন। বন দপ্তরের ওই আধিকারিক বলেন রাংরুং এলাকায় রেখে হাতিটির চিকিৎসা করানো হবে এবং হাতি উদ্ধারের ঘটনাটি দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের জানানো হয়েছে। তাই দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু করা হবে না বলে জানিয়ে দেন।

পরবর্তী সময়ে রাংরুং এলাকায় হাতিটিকে দুই দিন রেখে চিকিৎসা করানোর পর হাতিটিকে মুঙ্গিয়াকামী রিজার্ভ ফরেস্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে কৈলাসহরের বন দপ্তরের আধিকারিক অর্ধেন্দু বিকাশ দাশ জানিয়েছেন। তবে, উদ্ধার হওয়া হাতিটি কোথা থেকে এসেছে কিংবা হাতিটি বাংলাদেশের কিনা তা তিনি স্পষ্ট ভাবে জানাননি। এভাবে কৈলাসহরের ছাগলডেমা এলাকায় ভারত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাটাতারের পাশে হাতি উদ্ধারের ঘটনায় গোটা কৈলাসহরে তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

ঊনকোটি জেলা সহ সমস্ত ত্রিপুরা রাজ্যে যে পরিমান হাতি রয়েছে সবগুলো হাতির শরীরে চিপস রয়েছে। যার ফলে চিপসের মাধ্যমেই হাতির মালিক নিরুপন করা হয়ে থাকে। তবে, বিশেষজ্ঞদের অভিমত হাতিটি বাংলাদেশের। কারণ, কেবলমাত্র বাংলাদেশের হাতির শরীরে চিপস থাকে না। তাছাড়া, ১২ সেপ্টেম্বর যখন বন দপ্তরের কর্মীরা হাতিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শুরু করেছিল তখন হাতির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সীমান্তের কাটা তারের কাটা দেখা গিয়েছিল।

Recent Posts