অনলাইন ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মূল্যায়নের ভিত্তিতে সাম্প্রতিক বন্যায় বন দপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫-২০ কোটি টাকা। তবে এখনও রাজ্যের প্রান্তিক কিছু এলাকায় বন দপ্তরের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। আজ সচিবলায়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বন দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা এ সংবাদ জানান।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় রাজ্যের বন দপ্তরের পরিকাঠামো বিশেষ করে চেক ড্যাম, শাল, সেগুন, রাবার, এগ্রো ফরেস্ট্রির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়াও জেএফএমসি এলাকার ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রেঞ্জ অফিস বিল্ডিং, সীমানা দেওয়াল, অভয়ারণ্যগুলির ফেন্সিং ইত্যাদি বনজ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বনমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের ৪৫০-৪৭০টি চেক ড্যাম বন্যায় সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে গেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দপ্তরের গৃহীত উদ্যোগ ও ত্রাণ কার্য অব্যাহত রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সাব্রুম মহকুমায় পোয়াংবাড়ি ব্লকের মধুপাড়া, পোয়াংবাড়ি, মেরুপাড়া এবং কাপ্তাইমেরু এলাকার ১৯০টি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, সোয়াবিন, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্য তেল, চকলেট, শুটকি, গামছা, লুঙ্গি ইত্যাদি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
একইভাবে গত ১০ সেপ্টেম্বর, 2024 ধলাই জেলায় প্রায় ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ক্ষতিগস্ত পরিবারপিছু ২৫ কেজি চাল, ১ লিটার ভোজ্য তেল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি পেঁয়াজ, ২৫০ গ্রাম শুটকি ইত্যাদি ত্রাণ সামগ্রী এবং ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বনমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে বন্যা পীড়িত পরিবারগুলির মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
আগামীকালও অমরপুর মহকুমায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে বলে বনমন্ত্রী জানান। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
তাছাড়াও বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে রাস্তায় উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে নিতে এবং যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে বন দপ্তর থেকে র্যাপিড টাস্ক ফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও বন দপ্তরের পিসিসিএফ ও হেড অব ফরেস্ট ফোর্স আর. কে. সামাল এবং পিসিসিএফ ও জাইকা প্রকল্পের সিইও প্রবীণ আগরওয়াল উপস্থিত ছিলেন।









