অনলাইন ডেস্ক, ২০ জানুয়ারী, ২০২৫: ককবরক ভাষা ককবরকভাষীদের মাতৃভাষা। এই ভাষা ককবরক ভাষীদের কাছে গর্বের। গতকাল সন্ধ্যায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে ট্রাইবেল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারেল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ৪৭তম ককবরক সাল-২০২৫ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, ককবরক শুধু একটি ভাষা নয়৷ ককবরক ভাষা ককবরকভাষীদের পরিচিতিও বহন করে।
ককবরক ভাষার উন্নয়নে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে৷ তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানে ককবরক ভাষা ও সাহিত্যের অনেক গুণী ব্যক্তি ককবরক ভাষার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন৷ তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরাও ককবরক ভাষার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ৪৭তম ককবরক সাল- ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ অনুষ্ঠানে মরণোত্তর ‘মহারাজা বীরবিক্রম মুকুমু সকাত’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে শ্যামাচরণ ত্রিপুরাকে। পুরস্কারটি গ্রহণ করেন প্রয়াত শ্যামাচরণ ত্রিপুরার সহধর্মিনী।
‘রাধামোহন ঠাকুর মুকুমু সকাত’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে রমেশ দেববর্মাকে। ‘অলিন্দ্রলাল মুকুমু সকাত’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে পঞ্চরাম রিয়াংকে। ককবরক লোকসংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে সত্যরঞ্জন দেববর্মাকে। ককবরক লোক যন্ত্রশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে রবীন্দ্র দেববর্মাকে। আধুনিক ককবরক সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে চিরকুমার দেববর্মাকে। ককবরক লোকনৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে শচীন্দ্র দেববর্মাকে। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে সুবোধ দেববর্মাকে।
ককবরক ভাষায় সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে সমীর দেববর্মাকে। ককবরক অডিও / ভিডিও এক্সিলেন্স পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বিমল দেববর্মাকে। স্টার্টআপ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে হেমামালিনী দেববর্মাকে। অতিথিগণ পুরস্কার প্রাপকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তাছাড়াও অনুষ্ঠানে ককবরক ভাষায় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদেরও পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রাইবেল রিসার্চ অ্যান্ড কালচারেল ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা রঞ্জিত দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা শুভাশিস দাস, ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের অধিকর্তা আনন্দহরি জমাতিয়া প্রমুখ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ককবরক সংগীত ও লোকনৃত্য পরিবেশিত হয়।









