অরবিন্দ সংঘ আয়োজিত রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী, রক্তদানের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ভেদাভেদের মনোভাব হ্রাস পাচ্ছে

প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬: সমাজের প্রতি ক্লাবের দায়বদ্ধতাই পারে সাধারণ মানুষের মধ্যে এর গ্রহণ যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে। বর্তমানে ক্লাবগুলো রক্তদান, বস্ত্রদান, বৃক্ষরোপনের মতো সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। পাশাপাশি এলাকার ছোটখাটো বিষয় নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও বর্তমানে ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজ অরুন্ধতীনগরের অরবিন্দ সংঘ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। উল্লেখ্য, অরবিন্দ সংঘের উদ্যোগে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৫৫তম ঋষি অরবিন্দ ঘোষের জন্মদিবস এবং ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপি নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরই অঙ্গ হিসেবে আজ রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। তাতে ক্লাব সদস্য/সদস্যাদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও রক্তদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মহিলারাও ক্লাবের বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে যুক্ত থাকছেন। যা বর্তমান সময়ে ক্লাবের ভূমিকার গুরুত্ব বৃদ্ধির সূচককে নির্দেশ করে।

ক্লাবগুলিকে নিরপেক্ষভাবে, এলাকার বয়োজেষ্ট্যদের সঙ্গে নিয়ে কোন ধরণের প্রভাব না খাটিয়ে ক্লাব এলাকার বিভিন্ন সমস্যা দূরীকরণে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাহলে ক্লাবের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে। রক্তদানের গুরুত্বের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তদানের ফলে রক্তদাতা ও রক্ত গৃহীতাদের মধ্যে এক ঐশ্বরিক চিন্তা ভাবনা সৃষ্টি হয়। রক্তদানের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ভেদাভেদের মনোভাব হ্রাস হয়। মানবতার উর্দ্ধে কিছুই নেই। মানুষের প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রকৃত মানবধর্ম হওয়া উচিৎ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোট জনসংখ্যার কেবলমাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ রয়েছে। রক্তদানের ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি, হার্টের বিভিন্ন সমস্যা অনেকাংশ হ্রাস পায়। বর্তমানে রাজ্যে ১২টি সরকারি এবং ২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। এই সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সরকার চেষ্টা করছে।

হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসুচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের মনোভাব জাগরণের পাশাপাশি জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার আগরতলা শহরে আধুনিক পদ্ধতিতে পার্কিং-এর সমস্যা দূরীকরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদেরও নিজস্ব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন এবং রক্তদাতাদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক মিনারানি সরকার, কর্পোরেটর অলক রায়, টিআরটিসি’র বোর্ড অফ ডাইরেক্টরস-এর মেম্বার শ্যামল কুমার দেব, ক্লাবের সভাপতি শ্যামল কুমার দে ও সচিব সুপ্রিয় ঘোষ।

Recent Posts