প্রগতি ত্রিপুরা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬: স্বাস্থ্য পরিষেবাকে জনসাধারণের জন্য সহজলভ্য এবং সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার নিরিখে রাজ্যসরকার অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে চলেছে। একের পর এক সফলভাবে রূপায়িত হচ্ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি। এর সুফল পেয়ে বহু সাধারণ মানুষ তাদের অসুস্থতা থেকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হলো রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম। যেখানে বিনামূল্যে শিশুদের স্ক্রিনিং, বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্নয় করে পরিষেবা প্রদান করা হয়। বিশালগড় মহকুমার দক্ষিণ দুর্গানগরস্থিত কে কে নগর আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের অন্তর্গত বাসিন্দা সাফুজ কবির ও মমতা বেগমের ৬ মাস বয়সী শিশুকন্যা সাইফা বেগম এবং কালিটিলা ভাটিলার্মা আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের অন্তর্গত বাসিন্দা রাজু সাহা ও প্রয়াত রেবা রানী সাহার ৩ বছর ৭ মাসের শিশু কন্যা আরাধ্যা সাহা শ্বাসকষ্ট ও বুকের যন্ত্রনা নিয়ে আসে গত ২২ জুন বিশালগড় মহকুমা হাসপাতালের আর বি এস কে টিম আয়োজিত আর বি এস কে’র স্ক্রিনিং স্বাস্থ্য শিবিরে।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সম্রাট দেববর্মা দু’জন শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জন্মগত হৃদরোগের সম্ভাব্য লক্ষণ নির্নয় করেন। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের আগরতলার আই জি এম হাসপাতালে ইকো কার্ডিও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ইকো কার্ডিও পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির জন্মগত হৃদরোগ (সি এইচ ডি) নির্নয় হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। দুই শিশুর পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তাদের পক্ষে শিশুকে বাইরে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ নেওয়া একেবারেই সম্ভব ছিলোনা। তবে আর বি এস কে টিমের তৎপরতায় ও মানবিক উদ্যোগের ফলে সাইকা বেগমকে ১৪ জুলাই চেন্নাইয়ের অ্যাপলো চিলড্রেনস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এবং ১৫ জুলাই চিকিৎসকদের সম্পূর্ণ সহযোগিতায় হৃদযন্ত্রের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে আরাধ্য সাহাকে ১৫ জুলাই উক্ত হাসপাতালে ভর্তিকরা হয় এবং ১৬ জুলাই তার হৃদযন্ত্রের সফল অস্ত্রোপচার হয়। শারীরিক জটিলতা ও অস্বস্তি না থাকায় দু’জন শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয় এবং তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। বিনামূল্যে সফল অস্ত্রোপচার এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ায় দুটি পরিবারই আর বি এস কে টিম এবং রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে।








