দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের বিশেষ উদ্যোগ জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত তিন শিশুর বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যালয়ের উদ্যোগে বিলোনিয়া মহকুমার ভারতচন্দ্র নগর ব্লকের অন্তর্গত বরটিলা মুণ্ডা পাড়ায় এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনায় নেতৃত্ব দেন ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার ডা. অনামিকা গোস্বামী। সঙ্গে ছিলেন বিলোনিয়া মহকুমা হাসপাতালের আরবিএসকে (RBSK) মেডিকেল টিমের দুজন মেডিকেল অফিসার ডা. অনামিকা মল্ল এবং ডাঃ সুমন দাস, লক্ষ্মীপুর আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের কমিউনিটি হেলথ অফিসার অস্মিতা দত্ত এবং বরটিলা সবরপাড়ার আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীগণ। এই আলোচনা সভায় জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত তিন শিশুর পরিবার, এলাকার সর্বসাধারণ নাগরিক এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বরটিলা মুণ্ডা পাড়ার বাসিন্দা দীপক সবরের কন্যা যমুনা সবর (৭ বছর), লিটন সবরের কন্যা আয়ুশি সবর (৮ বছর) এবং লিলমোহন সবরের কন্যা রিঙ্কু সবর (১১ বছর) এই তিন শিশু জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। ঘটনার বিবরণ থেকে জান থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় বিলোনিয়া হাসপাতালের আরবিএসকে মেডিকেল টিম প্রথম যমুনা সবরের জন্মগত হৃদরোগ সনাক্ত করে। এরপর অতি দ্রুত তাকে উদয়পুর ডিস্ট্রিক্ট আর্লি ইন্টারভেনশন সেন্টার এবং পরবর্তীকালে আইজিএম হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে ইকো-কারডিওগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকরা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে তাকে পুনরায় আইএলএস হাসপাতালেও পাঠানো হয় এবং সেখানেও ইকো-কারডিওগ্রাফির পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বহিঃ রাজ্যে পাঠিয়ে অপারেশন করার পরামর্শ দেওয় দেওয়া হয় এবং ২০২৩ সালে একই গ্রামের আয়ুশি সবর ও রিঙ্কু সবরেরও আইজিএম ও আইএলএস হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইকো-কারডিওগ্রাফি করা হয়। একইভাবে এই দুজনকেও অপারেশন করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। আরবিএসকে টিমের চিকিৎসকরা পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে বলেন যে, রাষ্ট্রীয় শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম কর্মসূচির আওতায় এই শিশুদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করবে। তবে অজ্ঞতা ও নানা আশঙ্কার কারণে শিশুদের পরিবার প্রথমে এই জটিল অস্ত্রোপচার করাতে রাজি হচ্ছিলেন না। বিলোনিয়া আরবিএসকে মেডিকেল টিমের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা বহুবার তাদের বাড়িতে গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেন।

এমনকি স্থানীয় আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও পরিবারগুলির সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের পুরো টিম সম্প্রতি পুনরায় ওই এলাকায় গিয়ে পরিবারগুলির সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং নিবিড় কাউন্সিলিং করেন। স্বাস্থা আধিকারিকদের এই আন্তরিক প্রচেষ্টা ও বোঝানোর ফলে অবশেষে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য সম্মতি জানান। এদিকে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতি দ্রুত এই তিনজন শিশুকে আগরতলা আইজিএম হসপিটালে পাঠিয়ে ইকো কার্ডিওগ্রাফি এবং প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ করে রাষ্ট্রীয় শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম কর্মসূচি’-র আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য শিশুদের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানো হবে। শুধু তাই নয়, রোগী ও তাদের অভিভাবকদের আসা-যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কার্যালয়ের পক্ষ থেকেই করা হবে। দক্ষিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কার্যালয় থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

Recent Posts