“আমি বিধায়ক হওয়ার আগে গুন্ডা ছিলাম!” মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই ভাইরাল তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানের বিতর্কিত অডিও

হুগলি, ০৫ নভেম্বর : “আমি বিধায়ক হওয়ার আগে গুন্ডা ছিলাম!”—মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার ঠিক প্রাক্কালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি টেলিফোনিক কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডের কণ্ঠস্বর তারকেশ্বরের বিতর্কিত বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানের বলে দাবি করা হচ্ছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলি জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও ক্লিপে শোনা যাচ্ছে, দলেরই এক যুব কর্মীকে রীতিমতো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চরম হুমকি দিচ্ছেন এক ব্যক্তি, যাঁকে তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান বলে দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আরামবাগ জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান রাজ্য কমিটির নেতা সুশান্ত বেরার নাম করেও ওই অডিওতে অত্যন্ত অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।সূত্রের খবর, সম্প্রতি তারকেশ্বরের এক সন্তু–ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে ভান্ডারহাটির অপর এক যুব বিজেপি কর্মী থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। আর সেই ঘটনার পরেই অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিধায়ক সন্তু পান। আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই টেলিফোনিক কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।যদিও এই ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে নিজের সাফাই দিয়ে তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান দাবি করেছেন, “তৃণমূলের কেউ আমাদের দলের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর গভীর ষড়যন্ত্র করছে। দলের কর্মীদের রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদেরই। যাকে এই কথাগুলি বলা হয়েছে, সে আসলে তৃণমূল করে এবং এখন ভোল বদলে বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের দলের কর্মীদেরই মিথ্যা কেসে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে। তাছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ কল তো সম্পূর্ণ একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, সেটা কে বা কারা বাইরে এনে প্রকাশ্যে এনেছে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব রুচির পরিচায়ক।“এদিকে, ভাইরাল হওয়া ওই কলরেকর্ডে বিধায়কের প্রকাশ্য রোষের মুখে পড়া সেই যুবকের দাবি, তিনি আদতে তৃণমূল করেন না, বিজেপির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন। তবে যে কলরেকর্ডটি প্রকাশ্যে এসেছে তা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ফলস্বরূপ কীভাবে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হলো সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার বেআইনি তোলাবাজি, ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা না পেয়ে হুমকি দেওয়া এবং দলীয় কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলেরই একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলি তুললেও রাজ্য বা জেলা নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অনুশাসনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সমালোচকদের দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ ও স্নেহধন্য হওয়ার কারণেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সন্তু পানের বিরুদ্ধে কোনো কঠিন ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না, আর এর ফলেই তাঁর এই আচরণ দিনদিন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে।এদিকে বৃহস্পতিবার পুরশুড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা রয়েছে। সূত্র মারফত জানা গেছে, সেই সভাতেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তারকেশ্বরের বিধায়কের বিরুদ্ধে নিজেদের তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ উগরে দিতে চলেছেন দলেরই একটি বড় অংশের বিক্ষুব্ধ কর্মী–সমর্থকরা।