ভোট প্রচারে বেরিয়ে হামলার মুখে বাম কর্মীরা, রডের ঘায়ে মাথা ফাটল এক নেতার

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : পুর ও নগর নিগম নির্বাচনের প্রচার ঘিরে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ল রাজধানী আগরতলায়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানোর সময় দুষ্কৃতীদের আক্রমণের শিকার হলেন সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, প্রচারকাজ বন্ধ করার ধমকি দেওয়ার পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল লাঠি ও রড নিয়ে আচমকাই তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এই হামলায় বিমল শুক্লদাস নামে এক বাম নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন, রডের ঘায়ে তাঁর মাথা ফেটে যায়। কেবল তা-ই নয়, আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করতে কর্মী-সমর্থকরা যে সব বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুক্রবার আগরতলা পুর নিগমের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডুকলি এলাকার ঋষিপাড়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ঋষিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তাঁদের প্রচার বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আঁচ করে বাম কর্মীরা প্রচার কর্মসূচি বন্ধ করে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ২৫ – ৩০ জনের একটি দল লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়।

আকস্মিক এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ, হামলাকারীরা সেখানেই থেমে থাকেনি। এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় তারা। আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

এদিকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ কমল ঋষিদাসের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সিপিআইএম কর্মী বিমল শুক্লদাস। অভিযোগ, হামলাকারীরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর বিমল শুক্লদাসকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত বিমল শুক্লদাসের দাবি, এই আক্রমণের নেপথ্যে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা জড়িত। শুক্রবার আইজিএম হাসপাতালে সাংবাদিকদের সামনে তিনি পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তবে এই দাবির বিষয়ে অভিযুক্ত শিবিরের কোনো মতামত পাওয়া সম্ভব হয়নি।
পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষের দিকে এসে প্রচারকে ঘিরে এ ধরনের হামলার অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকরা যদি আক্রমণের শিকার হন এবং সাধারণ মানুষ ভয়ে নিজেদের ঘরে স্থান দিয়েও নিরাপত্তাহীন বোধ করেন, তবে নির্বাচনের পরিবেশ কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন সিপিআইএম বিধায়ক রামু দাস, ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেবসহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব। তাঁদের অভিমত, প্রচার অভিযানে বাধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের ওপর আক্রমণ চালানো গণতন্ত্রের মূল ভাবনার পরিপন্থী। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই জাতীয় হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।
সব মিলিয়ে পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনের এই আবহে ঋষিপাড়ার হামলার ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। ভোটের লড়াই কি তবে ময়দানের সীমানা ছাড়িয়ে সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছে, আপাতত সেই চিন্তাই ঘনীভূত হচ্ছে।