অনলাইন ডেস্ক,২৫ আগস্ট,২০২৪: রাজ্যে গত ১৯-২৪ আগস্ট পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টির ফলে রাজ্যের নদীগুলিতে জলস্তর লক্ষ্যনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। যা এখনও বজায় রয়েছে। সোনামুড়ায় গোমতী নদীর জলস্তর এখনও বিপদসীমায় উপর দিয়ে বইছে।
ত্রাণ, পুর্নবাসন এবং বিপর্যয় ব্যাবস্থাপন দপ্তরের পক্ষ থেকে আজ বিকালে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে। প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার নিবিড় তদারকিতে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস রিলিজে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় বোধজংনগরে সর্বোচ্চ ৪২.৫ মিমি বৃষ্টি হয়৷
রাজ্যের ৩টি জেলায় এস ডি আর এফ-এর ৩টি বাহিনী এবং এন ডি আর এফ-এর ২টি বাহিনী উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাচ্ছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্য পরিচালনায় ৫০০ জন সিভিল ডিভেন্স এবং আপদা মিত্র-এর স্বেচ্ছাসেবীগণ যুক্ত রয়েছেন। আজ পর্যন্ত ২৭,০০০ খাদ্যের প্যাকেট গোমতী ও দক্ষিণ জেলায় দুর্গতদের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ৫২৫টি ত্রাণ শিবিরে ১ লক্ষ ১৭ হাজার লোক আশ্রিত রয়েছেন। তাদেরকে জেলাশাসকদের তরফ থেকে খাদ্য, পানীয়জল, ওষুধ প্রভৃতি দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। আজ পর্যন্ত ২৬ জন বন্যায় মারা গেছেন। তাছাড়া ২ জন আহত এবং ২ জন নিখোজ রয়েছেন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০,২৮৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১,৬১০টি সম্পূর্ণ, ১,৬৩৩টি মারত্মকভাবে এবং ১৭,০৪৬টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় আঠারমুড়ার যেখানে ৮নং জাতীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা দিয়ে আজ হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরূপনে গতকাল মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজম্যান্ট অথরিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক, মুখ্য বন সংরক্ষক, রাজস্ব ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের সচিবগণ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিরসণ, ত্রাণ ও পুনস্থাপন বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জনগণের উপর বিপর্যয়ের প্রভাব নিরসণে রাজ্যসরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি একযোগে নিবিড় সমন্বয় রেখে কাজ চালিয়ে যাবে। প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর থেকে (আই এম ডি) জানানো হয়েছে, আগামীকালও রাজ্যের কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের জন্য দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় রেড অ্যালার্ট এবং ধলাই ও গোমতী জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।









