অনলাইন ডেস্ক,২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশনে গত ৪ বছরে ৪৬ হাজার ৮৬.৫৫ হেক্টর এলাকা রাবার চাষের আওতায় আনা হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন ৫৬ হাজার ৪০০ জন জনজাতি অংশের মানুষ। আগামী বছর আরও প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর এলাকা এই প্রকল্পে রাবার চাষের আওতায় আনা হবে৷ আজ জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা সুভাশিস দাস এই সংবাদ জানান।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাবার বোর্ডের রাবার প্রোডাকশান কমিশনার ড. সিজু টি উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন নিয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা জানান, ২০২১ সালের ১৪ আগস্ট সিপাহীজলা জেলার পাথালিয়া ঘাটের তারাপদ পাড়ায় এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল।
প্রকল্পের শুরুতে ৩০ হাজার হেক্টর এলাকায় রাবার চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৬৯ হাজার হেক্টর এলাকায় রাবার চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়৷ পাঁচ বছরের জন্য নেওয়া এই প্রকল্প আগামী বছর শেষ হবে। অধিকর্তা জানান, টিটিএএডিসি, টিআরপিসি লিমিটেড, টিএফডিপিসি লিমিটেড, রাবার বোর্ড, টিআরপি ও পিটিজি এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্প রূপায়ণ করছে।
অধিকর্তা জানান, এই প্রকল্পে প্রতি হেক্টরে রাবার বাগান করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৫ হাজার ৪৫২ টাকা৷ প্রকল্প অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের সার্টিফাইড নার্সারি থেকে রাবার চারা বিনামূল্যে সরবরাহ করছে রাবার বোর্ড। চারা গাছে ফেন্সিং দেওয়া ও অন্যান্য খরচ বহন করছে জনজাতি কল্যাণ দপ্তর৷ অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে নাবার্ড থেকে।
এমজিএন-রেগায় এই রাবার বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে। সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে রাবার বোর্ড। অধিকর্তা জানান, টিটিএএডিসি গত ৪ বছরে ৯৬৬৬, ১২ হেক্টরে, টিআরপিসি ৮৯৮৫.২৯ হেক্টরে, টিএফডিপিসি ১১৩৯.৩০ হেক্টরে, রাবার বোর্ড (ত্রিপুরা) ১৯৯৩৬.২২ হেক্টরে, টিআরপি ও পিটিজি ২৪৬১.০১ হেক্টরে এবং জনজাতি কল্যাণ দপ্তর ৩৮৯৮.৬১ হেক্টর এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশনে রাবার বাগান গড়ে তুলেছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাবার প্রোডাকশান কমিশনার ড. সিজু টি বলেন, কেরালার পরেই রাবার উৎপাদনে ত্রিপুরা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন এখানে সাফল্যের সঙ্গে রূপায়ণ করা হচ্ছে। এজন্য তিনি রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, রাবার বোর্ড ত্রিপুরায় রাবার চাষে সব ধরণের সহযোগিতা করবে।
তিনি জানান, জনজাতি কল্যাণ দপ্তর থেকে ১০ জন জনজাতি ছাত্রকে কেরালায় ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট ফর রাবার টেকনোলজি-তে পাঠানো হয়েছিল পোস্ট গ্রেজুয়েট ডিপ্লোমা ইন রাবার প্ল্যান্টেশন ম্যানেজমেন্ট পড়ার জন্য। এক বছরের এই কোর্সে তারা সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনের পর জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধিকর্তা, রাবার প্রোডাকশান কমিশনার এবং অন্যান্য অতিথিগণ ছাত্রদের হাতে এই কোর্সে উত্তীর্ণ হওয়ায় শংসাপত্র তুলে দেন।









