উদয়পুরের রাজর্ষি হলে জাগৃতি-২০২৫ কর্মসূচির উদ্বোধন, নেশামুক্ত সমাজ গড়তে যুব সমাজকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ১১ জানুয়ারী, ২০২৫: যুব সমাজকে নেশার কবল থেকে রক্ষা করতে রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষে একা নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে৷ আজ উদয়পুরের রাজর্ষি হলে ‘জাগৃতি-২০২৫’ কর্মসূচির উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, নেশামুক্ত সমাজ গড়তে যুব সমাজকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে৷ নেশার কুফল সম্পর্কে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতে পারলে সমাজ উপকৃত হবে৷ তাছাড়াও ভোক্তা সুরক্ষা বিষয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে৷ উল্লেখ্য, সড়ক নিরাপত্তা, ভোক্তা সুরক্ষা ও নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই জাগৃতি-২০২৫ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের সহযোগিতায় খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক এবং পরিবহণ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী ও সিপাহীজলা জেলার মহাবিদ্যালয়গুলিকে নিয়ে আজ প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয় মেগা ক্যুইজ প্রতিযোগিতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি খাদ্য ও পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ভোক্তা সুরক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা এবং নেশার কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে৷ নেশার বিরুদ্ধে জনজাগরণ তৈরি করতে হবে৷ তিনি বলেন, মানবসম্পদ হলো শ্রেষ্ঠ সম্পদ৷ অনুষ্ঠানে পরিবহণমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যুবক-যুবতী সহ সমাজের সকল অংশের মানুষের প্রচেষ্টায় নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে৷

অনুষ্ঠানে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, নেশার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য জাগৃতি কর্মসূচিতে ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়াও এই ক্যুইজ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে ভোক্তা সুরক্ষা বিষয়ক আইন সম্পর্কেও যুবা সম্প্রদায় সচেতন হতে পারবে। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা উচ্চ আদালতের বিচারপতি অরিন্দম লোধ রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নেশার কুফল ও ভোক্তা সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সচেতন করতে পারলে সমাজ উপকৃত হবে।

তাছাড়াও বক্তব্য রাখেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তরের সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার৷ সভাপতিত্ব করেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রঞ্জিত দাস, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক কিশোর বর্মণ, বিধায়ক জিতেন্দ্ৰ মজুমদার, উদয়পুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাদ্য, জনসংভরণ ও ক্রেতাস্বার্থ বিষয়ক দপ্তরের অধিকর্তা সুমিত লোধ।

মেগা ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ ত্রিপুরা, গোমতী এবং সিপাহীজলা জেলার বিভিন্ন মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়। বাছাই পর্বে সেরা ৬টি দলকে নিয়ে মূল পর্বে ক্যুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে শ্রেয়া মোদক ও অভিজিৎ চক্রবর্তী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে করণজিৎ পাল ও অভিজিৎ দেবনাথ এবং অদিতি দাস ও প্রসেনজিৎ দেবনাথ। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ বিজয়ীদের হাতে প্রথম পুরস্কার এলইডি টিভি, দ্বিতীয় পুরস্কার স্মার্ট ফোন ও তৃতীয় পুরস্কার স্মার্ট ওয়াচ তুলে দেন৷ এই তিনটি দল রাজ্যভিত্তিক জাগৃতি-২০২৫ কর্মসূচিতে ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে৷

Recent Posts

গোমতী নদীর জল ব্যবহার করে আগরতলায় প্রস্তাবিত, জল সরবরাহ ব্যবস্থা সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগামী দিনের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে সারা রাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণে মিশন মোডে কাজ করতে হবে