অনলাইন ডেস্ক, ২২জানুয়ারী, ২০২৫: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া কোনও দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়৷ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা দেশগুলি উন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়৷ আজ আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে শিক্ষক- শিক্ষিকাদের দ্বিতীয় বছরের জন্য ডিএনএ (DNA) ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধন করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে জৈব প্রযুক্তি বিষয়ক চিন্তা চেতনাকে আরও সুদৃঢ় করার প্রয়াস নিতে হবে। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির জেলা ও মহকুমাস্তরে আয়োজন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪০টি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক, টিচার্স কো-অর্ডিনেটর ও ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পরিবেশ দপ্তরের সচিব তথা ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. কে শশীকুমার৷ তিনি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিলের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ডিএনএ ক্লাবের প্রথম বছরের কাজের অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে ৪০টি বিদ্যালয়ের ২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়।
ডিএনএ ক্লাবের বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মসূচি সফলভাবে রূপায়ণের জন্য ৪০টি বিদ্যালয়ের ৮০ জন ছাত্রছাত্রীকে বেস্ট পারফরমিং স্টুডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। প্রশিক্ষণ শিবিরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকাগণ ডিএনএ ক্লাব প্রকল্প বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য দিকগুলি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ডিএনএ ক্লাবের অগ্রগতি ও মূল্যায়ন বিষয়ক একটি তথ্যভিত্তিক বইয়ের আবরণ উন্মোচন করা হয়৷
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সদস্য সচিব বিশু কর্মকার, সিনিয়র সায়েন্টেফিক অফিসার সুশান্ত বণিক প্ৰমুখ উল্লেখ্য, ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিল রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিকে বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য ডিএনএ ক্লাব প্রকল্পে আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ১৭২টি বিদ্যালয়কে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪০টি বিদ্যালয়কে ডিএনএ ক্লাবের কার্যক্রমের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 2024-25 অর্থবছরে রাজ্যে নতুন ৫০টি বিদ্যালয়কে ল্যাবরেটরি বিষয়ক যন্ত্রপাতি কেনা এবং বিভিন্ন জৈব বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ডিএনএ ক্লাব প্রকল্পে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বাটারফ্লাই গার্ডেন নির্মাণ, স্পেরো হাউস নির্মাণ, ব্লাড গ্রুপ আইডেন্টিফিকেশনের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বায়োটেকনোলজি অধিদপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা তথা ত্রিপুরা বায়োটেকনোলজি কাউন্সিলের সদস্য সচিব অঞ্জন সেনগুপ্ত।









