অনলাইন ডেস্ক, ২২জানুয়ারী, ২০২৫: অ্যাসপিরেশনাল ব্লক কর্মসূচিতে পাহাড়ি এলাকার জনজাতি অংশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি ও কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র, মৌলিক পরিকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলিতে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য পাহাড়ি জনজাতি এলাকার সার্বিক বিকাশ। আজ দামছড়া ব্লকে এক পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রাজভূষণ চৌধুরী একথা বলেন। পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী লুঙ্গা জমিতে বাঁধ নির্মাণ করে জলাশয় সৃষ্টি করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ তিনি বলেন, এ ধরনের জলাশয়ের জল কৃষিকাজে যেমন ব্যবহার করা যায় তেমনি পরিশোধন করে পানীয়জল হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
সভায় অ্যাপিরেশনাল ব্লক দামছড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি জনপদগুলিতে যেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে না সেখানে সৌরশক্তি ব্যবহার করতে হবে। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রাজভূষণ চৌধুরী আজ দামছড়া ব্লকের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় কেন্দ্ৰীয় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী দামছড়া ভিলেজের হালামবাড়ি ও কাসকাউ পাড়ায় দুটি নতুন উদ্ভাবনী জল পরিশোধন প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি দামছড়া ব্লকের মনাছড়া এডিসি ভিলেজের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী, স্বসহায়ক দলের সদস্যা ও পিএম- জনমন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন। পর্যালোচনা সভায় দামছড়া ব্লকের বিডিও অনুপম চাকমা ব্লক এলাকায় রূপায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, অ্যাসপিরেশনাল ব্লক কর্মসূচিতে দামছড়া ব্লকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়িত হয়েছে।
জল জীবন মিশনে ব্লকে ৯৪ শতাংশ বাড়িতে পাইপলাইনে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সভায় মৎস্য দপ্তরের উপঅধিকর্তা জানান, দামছড়া ব্লকে চাহিদার তুলনায় মাছের উৎপাদন বেশি। ব্লক এলাকার খেদাছড়ায় একটি নতুন হ্যাচারি তৈরি করা হয়েছে। সভায় বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিনিধি জানান, দামছড়া ব্লকে ব্লু রিয়াং শরণার্থী পরিবারের ৮৮৮টি পরিবারকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সভায় উদ্যানপালন ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তরের উপঅধিকর্তা জানান, দামছড়া ব্লকে মহিলাদের মাশরুম চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে বেশ কিছু পরিবারে বাড়তি রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যালোচনা সভায় অ্যাসপিরেশনাল ব্লক হিসেবে দামছড়ায় স্বাস্থ্য, কৃষি, গ্রামীণ জীবিকা মিশন কর্মসূচিতে দামছড়া ব্লকের ১০০ শতাংশ সাফল্যে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভূয়সী প্রশংসা করেন। পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক বিনয়ভূষণ দাস, দামছড়া বিএসির চেয়ারম্যান উপেন্দ্র রিয়াং, উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক দেবপ্রিয় বর্ধন, পানিসাগর মহকুমার মহকুমা শাসক সুশান্ত দেববর্মা, জেলা বন আধিকারিক সুমন মল্ল, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দীপক হালদার প্রমুখ।









