অনলাইন ডেস্ক, ২৩ জুন, ২০২৬: ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (টিবিএসই) মঙ্গলবার আগরতলায় পর্ষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) ও উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণি) পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে। এদিন টিবিএসই-র সভাপতি অধ্যাপক ধনঞ্জয় গণচৌধুরী সফল ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাও এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দক্ষিণ ত্রিপুরার পিএম-শ্রী জোলাইবাড়ি এমএম গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পূজা দত্ত ৪৯১ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। পশ্চিম ত্রিপুরার পিএম-শ্রী কামিনী কুমার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের তৃপ্তি দাস ৪৯০ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। অম্পিনগর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অয়ন সাহা এবং রামকমল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দিয়া নাথ ৪৮৮ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন।
চতুর্থ স্থান যৌথভাবে অর্জন করেছেন বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ফারজানা আক্তার এবং পিএম-শ্রী জোলাইবাড়ি এমএম হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পূজা রায়। ব্রজেন্দ্র হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের বিশ্বজিৎ চন্দ ৪৮১ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন। রামকমল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের স্নেহা দে এবং নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের অরূপ সাহা ৪৭৯ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন।
সপ্তম স্থান যৌথভাবে অর্জন করেছেন তুইকরমা রুইসা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শুভ্রদীপ আচার্য, বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দেবদত্ত ভৌমিক এবং নেতাজি সুভাষ বিদ্যানিকেতনের ধৃতি দেবনাথ। তিনজনই ৪৭৮ নম্বর পেয়েছেন। লক্ষ্মীছড়া রামকৃষ্ণ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের রাহুল রুদ্র পাল ৪৭৭ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থান অর্জন করেছেন। ত্রিপুরেশ্বরী শিশু নিকেতনের শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী ৪৭৫ নম্বর পেয়ে নবম এবং পশ্চিম বগাফা হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের অনামিকা পাল ৪৭৪ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছেন।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার শীর্ষ ১০-এর মেধাতালিকায় মোট ১৫ জন ছাত্রছাত্রী স্থান পেয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পিএম-শ্রী অমরপুর টাউন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শুভ্রজিৎ সরকার ৪৯৬ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের ঐশিকা পাল ৪৮৩ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় এবং সেন্ট ফ্রান্সিস অ্যাসিসি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এলিজা সাংমা ৪৭৯ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। চতুর্থ স্থান যৌথভাবে অর্জন করেছেন আনন্দ মার্গ স্কুলের রোহন দেববর্মা এবং রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের আশমিত সূত্রধর।
দুজনেই ৪৭৮ নম্বর পেয়েছেন। বিবেকানন্দ শিশু নিকেতনের দেবস্মিতা সাহা ৪৭৭ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। বীর বন্ধু ইংলিশ মিডিয়াম হাই স্কুলের মনীশ দাস এবং জয়পুর হাই স্কুলের সারদীপ রায় ৪৭৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছেন। নলছড় হাই স্কুলের মুক্তা দেবনাথ অষ্টম এবং বৃন্তক শিক্ষা নিকেতনের অনীশ চক্রবর্তী ৪৬৭ নম্বর পেয়ে নবম স্থান অধিকার করেছেন। দশম স্থান যৌথভাবে অর্জন করেছেন বড়দোয়ালি হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সাগ্নিক রায় এবং শিশু নিকেতন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের দিশা দাস।
দুজনেই ৪৬৭ নম্বর পেয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার শীর্ষ ১০-এর মেধাতালিকায় মোট ১৩ জন ছাত্রছাত্রী স্থান পেয়েছেন। টিবিএসই-র সচিব ড. জয়দীপ ভট্টাচার্য জানান, এ বছরের মেধাতালিকায় ত্রিপুরার সব জেলার ছাত্রছাত্রীরা স্থান পেয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার অগ্রগতির প্রতিফলন। পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশোধিত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত করার কারণেই মেধাতালিকা প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, উচ্চমাধ্যমিকের শীর্ষ ১০-এর মেধাতালিকায় স্থান পাওয়া ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন ছাত্রী এবং ৬ জন ছাত্র। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘বছর বাঁচাও’ কর্মসূচির ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য টিবিএসই-র ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।









