অনলাইন ডেস্ক, ২৪ জুলাই, ২০২৬: রাজ্যের প্রাণীপালকদের কাছে দ্রুত ও আধুনিক পশুচিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে আজ ৫০টি মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট (এমএমভিইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। আগরতলার প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাসনবনিযুক্ত ৫০জন মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিটের চালকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ির চাবি তুলে দেন। এই ইউনিটগুলির মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার পশুপালকরা দ্রুত চিকিৎসা, টিকাকরণ, রোগ নির্ণয় এবং অন্যান্য পশুস্বাস্থ্য পরিষেবা সহজেই পাবেন। এর মাধ্যমে রাজ্যের পশুচিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা ড. নীরজ কুমার চঞ্চল, অতিরিক্ত অধিকর্তা ড. বিমল কৃষ্ণ দাসসহ দপ্তরের আধিকারিকগণ।

অনুষ্ঠানের সূচনা করে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাসবলেন, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের বাজেটে গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক স্তরে ৫০টি মিনি মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পরিষেবার মূল উদ্দেশ্য হলো,দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গবাদিপশু ও গৃহপালিত প্রাণীদের দ্রুত ও সহজলভ্য চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেখানে বর্তমানে চালু ১৩টি বড় মোবাইল ভেটেরিনারি ইউনিট পৌঁছাতে পারে না, সেখানে এই মিনি ইউনিটগুলি সরাসরি প্রাণীপালকদের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাকরবে। তিনি আরও বলেন, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো পশু ও পাখির উন্নত স্বাস্থ্যষেবা নিশ্চিত করা, রাজ্যে মাংস, ডিম ও দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং পশুপালনের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। পশু স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে দপ্তর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, রোগ প্রতিরোধমূলক পরিষেবার আওতায় বছরজুড়ে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি রূপায়ন। যার মধ্যে এফএমডি টিকাকরণ অন্যতম। দ্বিতীয়ত, রোগ নিরাময়মূলক পরিষেবার অংশ হিসেবে ডিসপেনসারি, সাব-সেন্টার ও হাসপাতালের পাশাপাশি অসুস্থ পশুর জন্য মোবাইল ভেটেরিনারি দল সরাসরি বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা করা।

প্রাণীসম্পদ বিকাশ মন্ত্রী জানান, ১৯৬২ হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসক, এআরডিডি কর্মী এবং অ্যানিম্যাল অ্যাম্বুলেন্স সংশ্লিষ্ট পশুপালকের বাড়িতে পৌঁছে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রাণী সম্পদ বিকাশ যোজনা’র মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পোল্ট্রি, শূকর ও গবাদিপশু পালনের জন্য হাজার হাজার পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে এডিসি এলাকার প্রাণীপালকদের জন্য শূকর পালন প্রকল্পসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীলও বক্তব্য রাখেন। তিনি এই উদ্যোগকে রাজ্যে প্রাণীপালকদের সহায়তার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে এনএল-এমইডিপি প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ ত্রিপুরা ও গোমতী জেলার দুইজন প্রাণীপালককে ভর্তুকি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বীমা প্রকল্পের আওতায় দুইজন উপভোক্তার হাতে যথাক্রমে ৬০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. বিমল কৃষ্ণ দাস।

Recent Posts