আগরতলা, ৩ নভেম্বর:
শ্রীশ্রী গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্র একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মণিপুরী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা। সোমবার কলাক্ষেত্রের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রানিরবাজারের বৃদ্ধিনগর মণিপুরী এলাকায় এই মণিপুরী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী সংস্কৃতির প্রচার, প্রসার এবং পরম্পরাকে অক্ষুণ্ণ রাখাই ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শোভা বাড়ান সমাজসেবী রাজেশ ভুবী, অমর ঘোষ এবং ত্রিপুরা কালচার অ্যাডভাইজারি বোর্ডের অন্যতম সদস্য সেনাম দীপক কুমার সিংহ। অন্যদিকে, রাজ্যের সুপরিচিত মৃদঙ্গ বাদক রঞ্জিত শর্মার সভাপতিত্বে সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালিত।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক উৎসবে মণিপুরী সমাজের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, রাজ্যের দুই বিশিষ্ট মৃদঙ্গ বাদককে তাঁদের দীর্ঘদিনের শিল্পসাধনা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাঁদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে মণিপুরী সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ভারতবর্ষের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে মণিপুরী সমাজের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক রতন চক্রবর্তী মণিপুরী সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় কলাক্ষেত্রের ভূমিকার অত্যন্ত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে ধরে রাখার জন্য যাঁরা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁরা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেবল অতীতের স্মারক নয়, বরং তা একটি সমাজের পরিচয় ও আত্মপরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। তাই তরুণ প্রজন্মের মনে নিজস্ব কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি করা খুবই আবশ্যক। এক্ষেত্রে গোপালজি মণিপুরী কলাক্ষেত্রের মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এদিন বিধায়ক কলাক্ষেত্র ও মন্দিরের উন্নয়নে এবং মণিপুরী সমাজের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিজের বিধায়ক তহবিল থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আগামী দিনেও এ ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
উক্ত অনুষ্ঠানে অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সংস্কৃতিকর্মী এবং মণিপুরী সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ অংশ নেন। এই দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো বৃদ্ধিনগর মণিপুরী পাড়ায় এক উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্য রক্ষায় এ ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সেখানে উপস্থিত সবাই।









