‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনে গোড়াতেই চিড়

কলকাতা, ৬ নভেম্বর : কলকাতায় ‘ভোট চুরি’র বিরুদ্ধে বামদলগুলির সভায় অনুচ্চারিতই রইল মমতার নাম। সিপিআইএমএলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য যেমন ভোটাধিকার ফেরাতে বৃহৎ ঐক্যের ডাক দিলেন, তেমন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বার্তা দিলেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন, সেখানে যেন কোনও ধরনের চোরেরা প্রবেশ করতে না-পারেন।

মহম্মদ সেলিমের এই বার্তায় ইঙ্গিত করা হয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে সর্বভারতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যের ছবি ধরা পড়েছিল। দেখা গিয়েছিল, সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক মারিয়াম আলেকজান্ডার বেবি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুধু এক গাড়িতে সওয়ার হয়েছেন তা-ই নয়, কানে কানে কথাও বলছেন। কিন্তু তার চার দিনের মাথায় পরিস্থিতি বদলে গেল।

দীপঙ্করবাবু স্পষ্ট করে দেন, কার সঙ্গে জোট হবে কি হবে না, এই প্রশ্ন এখন অমূলক।

তাঁর কথায়, “আমরা চাই আন্দোলনের ঐক্য গড়ে উঠুক।” যে মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের সবাইকে নিয়ে আন্দোলনের কথা বলেন তিনি। সেইসঙ্গে এ-ও বলেন, শুধু সভা-সমাবেশে এই আন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বুথস্তরে পৌঁছে আশু কাজটা করতে হবে।

সেলিমের কথায়, “ভোট চুরির বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন হচ্ছে, তখন অন্য চোরেরাও ঢুকে পড়তে পারে। তা থেকে সাবধান থাকতে হবে। চোরেদের পাপস্খলন করে তবেই আন্দোলনে আসতে হবে।”

মঞ্চে সেলিম কারও নাম করেননি। পরে সিপিএম রাজ্য সম্পাদককে প্রশ্ন করা হয়, এই চোর কারা? জবাবে তিনি বলেন, “বোঝার জন্য ইশারাই যথেষ্ট। পশ্চিমবাংলার মানুষকে নাম বলে দিতে হবে না।” শুধু তা-ই নয়। সেলিম এ-ও বলেন, “খেয়াল রাখতে হবে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে যেন কোনও চর যেন ঢুকে না-পড়ে!”