কলকাতা, ৭ নভেম্বর :দীপাবলি ও ছটপূজার মতো আসন্ন উৎসবের মরশুমে ট্রেনযাত্রীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা এড়াতে চরম তৎপরতা শুরু করল পূর্ব রেল। ট্রেনে বাজি, পটকা বা কোনো ধরনের দাহ্য ও বিস্ফোরক পদার্থ বহন করার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জারি করার পাশাপাশি সার্বিক নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।উৎসবের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রেলওয়ে সুরক্ষা বল (RPF)-এর বিশেষ দল স্টেশন ও ট্রেনে ২৪ ঘণ্টা টানা তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযানের অঙ্গ হিসেবেই দীপাবলিতে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে লুকিয়ে বাজি নিয়ে যাওয়ার অপরাধে আরপিএফের হাতে আটক হয়েছে এক যুবক। জামাকাপড়ের ভেতর প্রায় ৫ হাজার টাকার নিষিদ্ধ বাজি লুকিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই যুবক। এই ঘটনার পরই স্টেশন চত্বর ও চলন্ত ট্রেনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে এবং আরপিএফের আইজি এ এন সিনহার প্রত্যক্ষ নির্দেশে শিয়ালদহ ও হাওড়া ডিভিশনের সমস্ত প্রধান প্রধান রেল স্টেশন, ট্রেন এবং পার্সেল ইয়ার্ডগুলিতে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, চলতি নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনে আরপিএফ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৭টি পৃথক মামলা রুজু করেছে এবং এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তল্লাশি চালিয়ে মোট ৪৯,২৬৫ টাকা মূল্যের বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।এ বিষয়ে রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলওয়ে আইন অনুযায়ী ট্রেনে বাজি, দাহ্য দ্রব্য বা কোনো ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন লঙ্ঘন করলে অপরাধীর ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা জরিমানা, এমনকি কঠোর কারাদণ্ডও হতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও বেআইনি কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য এবং সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে অবিলম্বে রেল পুলিশকে জানানোর বিশেষ আবেদন জানিয়েছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ।









