আইপ্যাটের গভর্নিং বডির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প বিকাশের পথ সুগম করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক, ০৮ মে, ২০২৬: বর্তমান রাজ্য সরকার শিল্প বান্ধব সরকার। বর্তমানে ত্রিপুরাতে শিল্প গড়ার বিরাট সুযোগ রয়েছে। রাজ্যে শিল্প বিকাশে উৎপাদনমুখী শিল্পের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আজ সচিবালয়ের ২নং কনফারেন্স হলে রাজ্যে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সি অফ ত্রিপুরা’ (আইপ্যাট) এর গভর্নিং বডির বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে শিল্প স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, বর্তমান বিশ্বের যেসব দেশ বা রাজ্যে শিল্পায়ন ঘটেছে সেখানে উৎপাদনভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প বিকাশের পথ সুগম করতে হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরার বাঁশ ও রাবার সম্পদের সম্ভাবনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইদানিংকালে রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য বহু বিনিয়োগকারী আগ্রহ প্রকাশ করছেন। রাজ্যে নতুন নতুন শিল্প স্থাপিত হলে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার যুবক-যুবতীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তাদের মধ্যেও মেধা ও দক্ষতার কোনো অভাব নেই। এই দক্ষতাকে আরও উন্নত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাতেও শিল্প গড়ে তোলার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়ে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিব ও আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, আজকের বৈঠকে সাব্রুমের জলেফায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পাশাপাশি ধলাই জেলার কুলাইয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৫০টি এমবিবিএস আসন বিশিষ্ট একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমাও উপস্থিত থেকে আলোচনায় নিজ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শুরুতে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে আলোচ্য বিষয়গুলির উপর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।

মুখ্যসচিব জে কে সিনহা বলেন, ত্রিপুরার বনজ ও স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে সফলতার সুযোগ বেশি থাকবে। পাশাপাশি যত বেশি সম্ভব স্থানীয় মানুষকে শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ও আকৃষ্ট করতে হবে। এর মাধ্যমে শিল্প উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্য অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বৈঠকে এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অপূর্ব রায়, সচিব অভিষেক সিং, সচিব মিলিন্দ রামটেকে সহ বিভিন্ন দপ্তরের সচিব এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

Recent Posts