অনলাইন ডেস্ক, ১৯ আগস্ট, ২০২৬: রাজ্যের রাজধানী শহর, জেলা ও মহকুমা হাসপাতালগুলিতে চালু করা হবে সান্ধ্যকালীন ওপিডি পরিষেবা। এছাড়া সমস্ত হাসপাতালগুলিকে ডিজিট্যাল পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আজ গোবিন্দ বল্লভপন্থ হাসপাতাল সংলগ্ন স্থানে নবনির্মিত ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজ এর উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। জিবিপি হাসপাতালে ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজ চালু হওয়ার ফলে এখন থেকে জিবিপি হাসপাতালে রোগীদের সাথে আসা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ স্বল্প ব্যয়ে থাকা ও খাওয়ার সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজ নির্মাণ হল রাজ্য সরকারের মানবিকতার ফসল। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য রাজ্যবাসীর কল্যাণে সমস্ত মৌলিক পরিষেবা প্রদান করা। তবে পরিকাঠামোর উন্নয়ন করলেই হবেনা, তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজ্যে বর্তমানে জিবিপি হাসপাতালে বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। আগামীতে লিভার, হার্ট সহ নানা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঠিক চিন্তাধারায় আজ দেশে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো গড়ে উঠছে। এর সফলতা দেশের করোনা মহামারী কালীন সময়েও দেশবাসী উপলব্ধি করতে পেরেছেন। চিকিৎসা পরিষেবা বৃদ্ধিতে টিটিএএডিসি এলাকাতে নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল গড়েতোলা হবে। চিকিৎসা পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসা বিদ্যার পরিধিও বর্তমানে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে এমবিবিএস, বিডিএস, নার্সিং শিক্ষাক্ষেত্রে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজ্যে নতুন আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক কলেজগুলিতে পঠন-পাঠন শুরুর প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দেশের ৮২৩টি মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে গুণগত শিক্ষা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে রাজ্যের আগরতলা গভ: মেডিক্যাল কলেজ ১৩১তম স্থান পেয়েছে। যা রাজ্যের জন্য গর্বের বিষয়।
মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য যোজনায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ উপকৃত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সুস্থ শৈশব ও সুস্থ কৌশোর অভিযানের আওতায় ৯০ শতাংশ শিশু ও কিশোরদের টিকাকরণের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে ত্রিপুরা আরবান লাইভলিহুড মিশনের বিশেষ অবদান রয়েছে। তার উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত জিবিপি হাসপাতালে এই ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজ নির্মান। এই ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজ নির্মানে ত্রিপুরা আরবান লাইভলিহুড মিশনের প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজুবাহিদ এ, ত্রিপুরা আরবান লাইভলিহুড মিশনের মিশন ডিরেক্টর তড়িৎকান্তি চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ভারতমাতা কেন্টিন ও শেল্টার হাউজের কক্ষগুলি ঘুরে দেখেন এবং এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে সংস্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে।









