অনলাইন ডেস্ক, ০১ অক্টোবর, ২০২৬: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আরও বেশি প্রযুক্তি নির্ভর। রাজ্যের ছাত্র যুবাদের মধ্যে মেধার কোন অভাব নেই। তাদের মেধার সঙ্গে প্রযুক্তিকেও যুক্ত করতে হবে। মেধার সাথে প্রযুক্তিকে যুক্ত করতে পারলে আরও বেশি করে তারা উদ্ভাবনী কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে। রাজ্য সরকার ছাত্র যুবাদের মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উন্নয়নমূলক কাজে লাগাতে চাইছে। তারাই হবে বিকশিত ভারত গঠন করার প্রধান কারিগর। আজ আগরতলার মহিলা মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত সেবা ফার্স্ট ইনোভেশান চ্যালেঞ্জ ২০২৬, মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) এবং ডিজি-স্বপ্নে ৩.০ এর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। মহিলা মহাবিদ্যালয়ে মাতঙ্গিনী প্রীতিলতা সভাগৃহে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সংস্কারের পর নব কলেবরে সজ্জিত এই সভা গৃহটির উদ্বোধনও করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত গড়ার জন্য ছাত্র-যুবা এবং প্রযুক্তিকে যুক্ত করার কথা বলেছেন। বিকশিত ভারত গঠন করার জন্য তিনি ছাত্র-যুবাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
মনকি বাত এবং পরীক্ষা পে চর্চা অনুষ্ঠানগুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাত্র-যুবাদের সঠিক পথ নির্দেশ করেন, পাশাপাশি তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে গ্রহণও করেন। রাজ্য সরকারও রাজ্যের উন্নয়নে তাদের চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগাতে আগ্রহী। এরই অঙ্গ হিসেবে সেবা ফার্স্ট ইনোভেশান চ্যালেঞ্জ ২০২৬, মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা এবং ডিজি-স্বপ্নে ৩.০ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের মূল ভাবনা হলো স্বচ্ছ ও সুস্থিতিশীল ভারত, সমৃদ্ধ অন্নদাতা ও সমৃদ্ধ ভারত, সুস্থ ও সমন্বিত ভারত, শিক্ষিত ও দক্ষ ভারত এবং সুরক্ষিত ভারত। এসবের মূল লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরাসরি জনগণকে যুক্ত করা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ১ হাজারেরও বেশি ইনোভেটিভ সেন্টার রয়েছে। এই সেন্টারগুলিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে হবে। রাজ্যের শিক্ষিত যুবাদের প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনায় গত ৫ বছরে ৬৩ হাজার ২৪৯ জনকে ৫ হাজার টাকা করে ৩১ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা সহায়তা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ভাবনার সাফল্য আসে যখন এই ভাবনাকে কোন প্রকল্পে, পরিষেবায় বা সফল ব্যবসায় পরিণত করা যায়। ডিজি স্বপ্নে কর্মসূচিতে শিক্ষিত যুবাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে প্রযুক্তির সহায়তায় সফল ব্যবসায় পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক্ষত্রে কেন্দ্রীয় সরকার ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেবে।
এর সুযোগ গ্রহণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, ত্রিপুরা সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ, ২০২৬ এবং মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনার মতো উদ্যোগগুলি ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তার সাথে যুক্ত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরী করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিকিমস্থিত মনিপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোপাল কৃষ্ণ প্রভু, সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন ডিভিশনের প্রধান রাজেশ্বর সিং জেনবার, অর্থ দপ্তরের সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডিজি স্বপ্নে ২.০ প্রকল্পে ১০ জন শিক্ষিত যুবা সফল ব্যবসায়ীর হাতে স্টার্টআপের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে গ্র্যান্ট এর চেক তুলে দেন। আজ চালু হওয়া প্রকল্পগুলির বিষয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা সঞ্চিতা রিয়াং। এই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা তথ্য প্রযুক্তি দপ্তর, মনিপাল ইউনিভার্সিটি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন বিভাগ।









