জিবিপি হাসপাতালে দ্বিতীয় ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতিতে কৃত্রিম গর্ভধারণে সন্তান লাভ

অনলাইন ডেস্ক, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: উত্তর পূর্বাঞ্চলের গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতিতে কৃত্রিম গর্ভধারণ-এ সফলতার নজির সৃষ্টি করেছে। সদর মহকুমার প্রতাপগড়ের জনৈক মহিলার বিয়ের পর বিগত আট বৎসর যাবৎ বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভুগছিলেন।  তারপর গত ২০২৫ সালে আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডাঃ) জয়ন্ত রায়ের তত্ত্বাবধানে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ অভিজিৎ শীল তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। গত ২১ নভেম্বর ২০২৫ মহিলার ইন-ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ আইভিএফ এর আগের স্টেপ ইন্ট্রাইউটেরাইন (আইইউআই) করে স্বামীর শুক্রাণু স্ত্রীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং তাতে মহিলার গর্ভধারণ সম্ভব হয়।

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) হল একটি কৃত্রিম গর্ভধারণ প্রক্রিয়া যাতে স্বামীর শুক্রাণু মেডিসিনের সাহায্যে জরায়ুর ভিতর প্রতিস্থাপন করা হয়। এই ধারনের প্রক্রিয়ায় গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব আমাদের রাজ্যে এটি দ্বিতীয় উদাহরণ। আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞগণ দ্বিতীয়বার এই সাফল্য পেয়েছেন। অবশেষে গত ২৮ জুলাই ২০২৬ সিজারিয়ান পদ্ধতিতে মহিলা ২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এই ক্ষেত্রে চিকিৎসক টিমে ছিলেন স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডাঃ) জয়ন্ত রায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর (ডাঃ) অভিজিৎ শীল, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (ডাঃ) সলিল বিন্দু চক্রবর্তী ও ডাঃ সুপর্ণা সূত্রধর প্রমূখ। গত ১ আগস্ট ২০২৬ মহিলাকে শিশু সহ হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর (ডাঃ) জয়ন্ত রায় ও প্রফেসর (ডাঃ) জে.এল.বৈদ্য এর প্রচেষ্টায় গত চার বছর আগেই এই ধরনের আইইউআই পদ্ধতিতে কৃত্রিম গর্ভধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ চিকিৎসকদের দ্বারা রাজ্যেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা লাভ করে এবং সন্তানের মুখ দেখতে পেয়ে মহিলার পরিবার-পরিজনেরা আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল অ্যান্ড জিবিপি হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে ।