অনলাইন ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬: দেশের ঐক্য, সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আজ রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে আগরতলার মনোরঞ্জন দেববর্মা স্মৃতি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং উপস্থিত সকলকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শপথবাক্য পাঠ করান।
পরবর্তীতে বিভিন্ন বাহিনীর সুসজ্জিত দল পর্যায়ক্রমে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়। প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫৬২টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করার ক্ষেত্রে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দৃঢ় নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। দেশের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্যই তিনি ‘ভারতের লৌহ মানব’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর আদর্শ ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচেষ্টায় ২০১৪ সাল থেকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিবস ৩১ অক্টোবর দিনটি রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতিতে বিভিন্নতা থাকলেও আমাদের জাতীয় পরিচয় একটাই-আমরা সবাই ভারতীয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই দেশের ঐক্য ও শক্তি নিহিত রয়েছে। তাই দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও সংহতি রক্ষা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। কুচকাওয়াজের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সমন্বয় প্রশংসনীয়। এই কুচকাওয়াজ কেবল শৃঙ্খলা ও দক্ষতার প্রদর্শন নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা, শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। অংশগ্রহণকারী সমস্ত বাহিনীর আধিকারিক ও জওয়ানদের তিনি অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরা পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল র্যালির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৮ অক্টোবর ১২ জন পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানকে নিয়ে এই র্যালির সূচনা হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও ছয়টি রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ অতিক্রম করে গত ২৫ অক্টোবর র্যালিটি গুজরাটের একতা নগরে পৌঁছায়।
৩১ অক্টোবর সেখানে আয়োজিত জাতীয় স্তরের মূল র্যালিতেও ত্রিপুরার দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করছেন। ‘ফাইট এগেইনস্ট ড্রাগস’ বা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই এই র্যালির মূল বার্তা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি সমাজের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জিডিপি এবং ত্রিপুরার জিএসডিপি-সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের এই অগ্রগতি দেখে কিছু মহলের মধ্যে ঈর্ষার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করার চেষ্টা চলছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ ও ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি অটুট রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দৃঢ় মানসিকতা, বলিষ্ঠ পদক্ষেপ এবং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির চেতনা জাগ্রত রাখার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং জাতীয় ঐক্য রক্ষায় সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব জে. কে. সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক জি. এস. রাও, স্বরাষ্ট্র সচিব অভিষেক সিং-সহ রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকবৃন্দ।









