‘আগরতলা আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং প্রকল্পের ভূমিপূজনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ১ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবারের বাড়ির ছাদে রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে

২৯ অক্টোবর,২০২৬: আগরতলা শহরের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে আজ বড়দোয়ালি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘আগরতলা আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলিং প্রকল্প’-এর ভূমিপূজন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ‘ইউটিলিটি-লেড এগ্রিগেশন’ (ইউএলএ) প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগরতলা সহ সারা রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং স্বল্প আয়ের পরিবারগুলিকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ করে তুলতে টিএসইসিএল-এর ওভারহেড বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনগুলিকে ভূগর্ভস্থ ক্যাবলে রূপান্তর করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ১,৪৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার ও টিএসইসিএল-এর অর্থানুকূল্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পাদনের জন্য তিনটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে আগরতলা পুর এলাকার সমস্ত এইচটি ও এলটি বিদ্যুৎ বিতরনের তারগুলি ভূগর্ভস্থ ক্যাবলে রূপান্তরিত হবে।
এই আধুনিক ব্যবস্থার ফলে ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। তিনি বলেন, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ও স্মার্ট কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আগরতলায় যানবাহন চলাচল ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রয়োজন কমানোর লক্ষ্যে আধুনিক ‘হরাইজন্টাল ডিরেকশনাল ড্রিলিং’ (এইচডিডি) বা ট্রেঞ্চলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০২৪ সালে দেশের ১ কোটি পরিবারের ঘরের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুক্ত বিজলি যোজনা চালু করা হয়।
এই প্রকল্পের অধীনে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলির কাছে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইউটিলিটি-লেড এগ্রিগেশন’ বা উলা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে মাসে ৫০ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী রাজ্যের ১ লক্ষ ৫০ হাজার পরিবারের বাড়ির ছাদে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের সম্পূর্ণ ব্যয় টিএসইসিএল-এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার বহন করবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক থেকে ৩৩ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া যাবে। বাকি অর্থ রাজ্য বাজেট এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় সংস্থান করা হবে।
উপভোক্তাদের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না। তবে তাঁদের ১,০০০ টাকা ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সোলার প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রথম ১০ বছর টিএসইসিএল-এর হাতে থাকবে। এই সময়কালে উপভোক্তারা প্রতি মাসে প্রায় ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে পাবেন। ১০ বছর পর সোলার প্ল্যান্টের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার হাতে হস্তান্তর করা হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দুটি প্রকল্প রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বিকাশ, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, গত ৮ বছরে রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ, আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। সাব স্টেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইন, ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফর্মার এবং আধুনিক ব্যবস্থার ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুফত বিজলি যোজনা নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী রতন লাল নাথ, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ত্রিপুরা বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পাল, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, বিধায়ক মীনারানি সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং এবং ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন টিএসইসিএলের এম ডি বিশ্বজিৎ বসু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগম এলাকার কর্পোরেটরগণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। Modify for News Paper

Recent Posts

শারদ সম্মান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড্রাগ মুক্ত ত্রিপুরা, সবুজ ত্রিপুরা গড়তে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে, স্বেচ্ছা রক্তদানে, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে ক্লাবগুলিকে আরও এগিয়ে আসতে হবে

গোমতী জেলা হাসপাতাল, ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতালের সম্প্রসারণ ও পাবলিক হেলথ ইউনিটের শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ