মণিপুরি ভাষা দিবস পালিত, ত্রিপুরার শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে মণিপুরি লেখক এবং বৃহত্তর মণিপুরি সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২০ আগস্ট, ২০২৬: সরকার একটি ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে এবং সুরক্ষা দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যারা সেই ভাষায় কথা বলেন, লেখেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভাষাটিকে পৌঁছে দেন, তাঁরাই একটি ভাষাকে জীবন্ত রাখেন। আজ আগরতলায় ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি টাউনহলে ৩৫ তম রাজ্যস্তরের মণিপুরি ভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় একথা বলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিপুর সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী খুরাইজাম লোকেন সিংহ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মণিপুর ইউনিভার্সিটি অব কালচারের উপাচার্য পাওনাম গুনিন্দ্রো।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, মণিপুরি ভাষা দিবস উদযাপন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠানই নয়। তিনি সেই সমস্ত মণিপুরি ভাষাভাষী মানুষ, লেখক, কর্মী ও অন্যান্য ব্যক্তিদের আত্মত্যাগ এবং নিরলস প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন, যাঁদের সংগ্রামের ফলেই মণিপুরি ভাষা সাংবিধানিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। তিনি মণিপুরি ভাষার বিস্তৃতি এবং মেইতেই লিপির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনে মণিপুরি লেখক এবং বৃহত্তর মণিপুরি সম্প্রদায়ের অবদান রয়েছে। ভারতের সংবিধানের অষ্টম তপশিলে মণিপুরি ভাষার অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষ্যে আজ আগরতলার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি টাউনহলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৩৫তম রাজ্য-স্তরের মণিপুরি ভাষা দিবস আজ পালন করা হয়। ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা বিভাগের অধিকর্তা আনন্দহরি জামাতিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরি ভাষা উন্নয়ন পরামর্শদাতা কমিটির সহ-সভাপতি থ. নীলকুমার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তের মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আগরতলার বিভিন্ন সড়ক পরিক্রমা করে। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে মণিপুরি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। মণিপুরের শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী খুরাইজাম লোকেন সিংহ শোভাযাত্রাটির উদ্বোধন করেন।

মণিপুরের শিল্পমন্ত্রী খুরাইজাম লোকেন সিংহও ২০ আগস্টের ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, ১৯৯২ সালে ছাত্রজীবনে তিনি মণিপুরি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। মণিপুরি ভাষা দিবস পালনের পাশাপাশি ভাষা ও তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তিনি ত্রিপুরা সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। মণিপুর ইউনিভার্সিটি অব কালচারের উপাচার্য পাওনাম গুনিন্দ্রো বলেন, মণিপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির আন্দোলন শুধুমাত্র মণিপুরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অসম ও ত্রিপুরায় বসবাসকারী মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষও এই সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট সংবিধানের ৭১তম সংশোধনীর মাধ্যমে মণিপুরি ভাষা ভারতের সংবিধানের অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছর মণিপুরে এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে, যেখানে মণিপুরি ভাষাভাষী মানুষের বসবাস রয়েছে সেখানে মণিপুরি ভাষা দিবস পালিত হয়। এ বছরের উদযাপনের অংশ হিসেবে মণিপুরি ভাষা ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়। তাঁরা হলেন-নাটা সংকীর্তনের জন্য সালাম ব্রজেন্দ্র সিংহ, মণিপুরি লোকসংগীতে অবদানের জন্য সেলাইবাম জীবন সেন, মণিপুরি সাহিত্যে অবদানের জন্য শামুলাইলাত্পম ওংবি সুরাধানি শর্মা এবং মণিপুরি ভাষার শিক্ষক হিসেবে অবদানের জন্য গুরুমায়ুম নিতাই শর্মা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মণিপুরি ঐতিহ্য ও বিভিন্ন শিল্পকলার পরিবেশনা নিয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Recent Posts