অনলাইন ডেস্ক, ২০ আগস্ট, ২০২৬: প্রজ্ঞাভবনে আজ আধুনিক পদ্ধতিতে শূকর পালনের বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনাচক্র এবং কর্মশালার উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নান্নু। তিনি কর্মশালা উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন এবং আলোচনাচক্রে অংশগ্রহণকারী বিজ্ঞানী, কৃষক, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। কর্মশালার উদ্বোধন করে রাজ্যপাল বলেন, ত্রিপুরায় বছরে প্রায় ৫৯.২০ হাজার মেট্রিকটন মাংস উৎপাদিত হয়। ত্রিপুরাবাসী বছরে মাথাপিছু প্রায় ১৪.১৫ কেজি মাংস আহার করেন। রাজ্যের মোট মাংস উৎপাদনের একটি বিরাট অংশ শূকর থেকে আসে। তাতেই বোঝা যায় শূকর পালন গ্রামীণ ত্রিপুরার অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। প্রগতিশীল শূকর পালনকারীরা শুধুমাত্র উৎপাদকই নন, তারা গ্রামীণ উদ্যোক্তা এবং ত্রিপুরার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রাজ্যপাল বলেন, প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, আর্থিক সহায়তা এবং প্রাণীপালকদের উদ্যোগকে সমন্বিত করে প্রাণীপালনে একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজ্য সরকারের লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাণীপালকদের আয় বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শূকর পালনকে একটি টেকসই ও বাণিজ্যিক এবং লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। রাজ্যপাল বলেন, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর রাজ্যে প্রাণীসম্পদ ভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে। তিনি রাজ্যের প্রগতিশীল প্রাণীপালকদের প্রশংসা করে বলেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে প্রাণীপালনে ত্রিপুরাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্যপাল এই আলোচনাচক্র এবং কর্মশালার সাফল্য কামনা করেন। এই অনুষ্ঠানে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস রাজ্যে প্রাণীপালকদের কল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের কথা উল্লেখ করেন। শূকর পালন লাভজনক জীবিকা হিসেবে গড়ে তুলতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শূকর পালন করার জন্য তিনি প্রাণীপালকদের উৎসাহিত করেন।
প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর অল ইন্ডিয়া কো-অর্ডিনেটেড রিসার্চ প্রজেক্ট এবং ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশনের উদ্যোগে আজ আয়োজিত এই কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল এমপাওয়ারিং প্রোগ্রেসিভ পিগ ফার্মার্স থ্রো ইনোভেটিভ অ্যান্ড সায়েন্টেফিক টেকনোলজিস অন পিগ ফার্মিং। অনুষ্ঠানে শূকর পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাজ্যে উন্নত পদ্ধতিতে শূকর পালনের বিষয়ে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রও দেখানো হয়। ১০ জন সফল শূকর পালককে সম্মানিত করা হয়। রাজ্যপাল প্রগতিশীল শূকর পালক, পোল্ট্রি পালক এবং অন্যান্য সফল সুবিধাভোগীদের তাদের সাফল্যের জন্য সংবর্ধনা দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের বিশেষ সচিব এস. প্রভু। দপ্তরের অধিকর্তা ড. এন. কে. চঞ্চল ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। কর্মশালায় শূকরের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ, বৈজ্ঞানিক প্রজনন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পশুখাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনা এবং বিপণনের মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ আলোচনা করেন।









