অনলাইন ডেস্ক, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ গোয়ায় “ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব ইএলসি ২.০ এবং ইএলসি নেট” বিষয়ে চতুর্থ আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করে। তরুণ নাগরিকদের মধ্যে নির্বাচনী সাক্ষরতা ও গণতান্ত্রিক সচেতনতা আরও শক্তিশালী করার ওপর সম্মেলনে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, শিক্ষার্থীরাই ভারতের ভবিষ্যৎ। তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবগুলি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
গোয়ার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বোঝার ক্ষেত্রে ইএলসিগুলি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন যে, ভারতে নির্বাচন ভারতের সংবিধান, আইন এবং ইসিআই-এর জারি করা নির্দেশাবলি কঠোরভাবে মেনে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল, প্রার্থী অথবা তাঁদের প্রতিনিধিদের সমান্তরাল নিরীক্ষণের অধীনে নির্বাচন স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়। সিইসি ইএলসি নেট-কেও দেশের সর্বত্র ভোটারদের জন্য স্বচ্ছতার বাহন হিসেবে তুলে ধরেন। এটি নির্বাচন-সংক্রান্ত পরিষেবা ও তথ্যের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।
‘গণতন্ত্র শিখুন। গণতন্ত্রের নেতৃত্ব দিন’ এই ট্যাগলাইনকে সামনে রেখে ইএলসি ২.০ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাবগুলিকে সুসংগঠিত, দৃশ্যমান এবং ডিজিটালভাবে সক্ষম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নতুনভাবে গড়ে তুলছে। এর মাধ্যমে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের গণতন্ত্র সম্পর্কে বোঝাপড়া তৈরি এবং অর্থবহভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হবে। ইসিআই নেট-এর বিস্তৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে—যেখানে ভোটার তালিকা থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত সমস্ত নির্বাচন-সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদান করা হয়—একটি নিবেদিত ইএলসি পোর্টালের মাধ্যমে সারা বছর ধরে ধারাবাহিক নির্বাচনী সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সারা দেশে ইএলসিগুলির একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
ভারতের বিস্তৃত শিক্ষাব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে প্রায় ১৫ লক্ষ স্কুল রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ কোটি শিক্ষার্থী এবং ১ কোটিরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় ১,৫০০টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় ৭০,০০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে আনুমানিক ৪.৩৩ কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করেন। nএই বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইএলসি ২.০ তথ্যভিত্তিক ও অভিজ্ঞতামূলক নির্বাচনী শিক্ষা প্রসারিত করা, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তরুণ নাগরিকদের তথ্যসমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের দূত হিসেবে গড়ে তুলতে উৎসাহিত করবে। ইএলসিগুলির মাধ্যমে নির্বাচনী নিবন্ধন, ভোটগ্রহণ, গণনা, ইএলসি নেট App এবং ইসিআই-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সম্পর্কেও তথ্য প্রচার করা হবে।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমার গোয়ায় দু’দিনের সফরে ছিলেন। এই সফরে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং ইএলসি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। গতকাল ১,০০০-এরও বেশি বিএলও-এর সঙ্গে একটি মতবিনিময়মূলক অধিবেশনে তিনি তাঁদের নিষ্ঠাপূর্ণ পরিষেবা এবং রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশান বা এসআইআর) সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেন। বৈঠকের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা সিইসি-এর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশগ্রহণ করেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।









