মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৭৩তম পর্ব, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার আশ্বাস পেয়ে ফিরে গেলেন সাহায্য প্রত্যাশীরা

অনলাইন ডেস্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে অতীতে রাজ্যে যা অসম্ভব ছিল বর্তমানে তা সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত হওয়ায় রাজ্যে এখন সাফল্যের সঙ্গে অঙ্গ প্রতিস্থাপনও করা হচ্ছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য স্বল্প ব্যয়ে রাজ্যবাসীকে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া। আজ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৭৩-তম পর্বে আগত সাহায্যপ্রার্থীদের চিকিৎসা সহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুর ৭৩-তম পর্বে আজ সিপাহীজলা জেলার কোনাবন থেকে ফুলদেবী দেববর্মা এসেছিলেন তার ছেলের হার্টের চিকিৎসার সাহায্যের আর্জি নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী ফুলদেবীর কথা শুনে দিল্লীস্থিত এইমসের সাথে কথা বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার দক্ষিণ শ্রীরামপুর থেকে খোকন পাল এসেছিলেন তার স্ত্রীর মস্তিষ্কের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী খোকন পালের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। আগরতলার ভাটি অভয়নগর থেকে দুঃস্থ বৃদ্ধা জয়া পাল মজুমদার এসেছিলেন তাঁর জটিল রোগের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার জন্য।

মুখ্যমন্ত্রী বৃদ্ধা জয়া পাল মজুমদারের কথা শুনে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা ও তাঁর সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। আগরতলার টাউন বড়দোয়ালি থেকে মৌসুমী ভট্টাচার্য্য এসেছিলেন নিজের কিডনি জনিত জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্যের কথা শুনে তার কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়ে আশ্বাস দেন।

এছাড়া আগরতলার অরুন্ধতীনগরের পিঙ্কু দেবনাথ ও মোহনপুর রাণীরবাজার থেকে অর্পিতা দেবনাথ এসেছিলেন তাদের সন্তানদের পা ও মস্তিষ্কের জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী সাথে সাথে তাদের সহায়তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে সিপাহীজলা জেলার গোকুলনগর থেকে জয়ন্ত দেবনাথ তার কিডনি জনিত জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানান এবং জিরানীয়ার অফিসটিলার সুমন দাস ও বিশালগড়ের অভিজিৎ সাহা এসেছিলেন তাদের জটিল হার্টের রোগের এবং লিভার জনিত জটিল রোগের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য।

মুখ্যমন্ত্রী তাদের কথা শুনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষুতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্যে ও সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তপন দাস এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রি দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. বিধান গোস্বামী, আইজিএম হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. নির্মল সরকার, অটল বিহারী বাজপেয়ী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. শিরমণি দেববর্মা সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকগণ।

Recent Posts