আগরতলা, ৩ নভেম্বর: আলোর পরব দীপাবলিকে কেন্দ্র করে বাজারে মোমের চাহিদা উর্ধ্বমুখী হলেও, রাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত মোম ব্যবসায়ীরা তাঁদের প্রত্যাশিত ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর প্রভাবে একাধারে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যায্য প্রতিযোগিতায় পড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটের কবলে পড়েছেন আইনসম্মতভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া মোম প্রস্তুতকারকরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন বাড়িঘরে ছোট ছোট পরিসরে মোম তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।
বৈধ মোম প্রস্তুতকারকদের অভিযোগ, তাঁরা সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করার পাশাপাশি নিয়মিত কর ও জিএসটি প্রদান করছেন। উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি, বিদ্যুতের মাসুল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়ে তাঁদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হয়। অথচ অন্যদিকে একদল বেআইনি ব্যবসায়ী কোনো রকম কর বা জিএসটি না দিয়েই মোম উৎপাদন ও বাজারে বিক্রি করে চলেছেন। এর জেরে উৎপাদন খরচের ক্ষেত্রে এক অস্বাস্থ্যকর ও অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতার তৈরি হচ্ছে। যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বিক্রি এবং লাভের অংকের ওপর।
দীপাবলির মতো উৎসবের মরশুমে সাধারণত মোমের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছর সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে দাবি করছেন মোম প্রস্তুতকারকরা। তাঁদের বক্তব্য, উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎপাদন ও বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও বাজারে অনুমোদনহীন উৎপাদকদের উপস্থিতির কারণে প্রত্যাশিত ক্রেতা মিলছে না। ফলে উৎসবের মরশুমেও ব্যবসায়িক মন্দা কাটছে না।
ব্যবসায়িক মন্দার প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানেও। উৎপাদন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় অনেকটাই কমিয়ে দিতে হয়েছে কর্মীর সংখ্যা। বৈধ ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকলে তাঁদের ব্যবসা আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাবে।
এ দিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মোম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক দাবি করেন, প্রশাসনের উপযুক্ত নজরদারির অভাবেই এলাকায় অনুমোদনহীন মোম তৈরির কারখানাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি উল্লেখ করেন, “নিয়ম মেনে যাঁরা সরকারের কর ও জিএসটি পরিশোধ করছেন, তাঁদের ব্যবসা আজ বিপন্ন। অথচ যাঁরা বেআইনিভাবে এই ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, বৈধ ব্যবসায়ীদের উপর একদিকে যেমন কর ও অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন উৎপাদকরা সেই দায় এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছেন।
মোম প্রস্তুতকারক মহলের স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা অনুমোদনহীন মোম তৈরির ইউনিটগুলির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এর পাশাপাশি, বাজারে আইনসম্মত উপায়ে ব্যবসা চালু রাখারা পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি রাখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
দীপাবলির আগে মোমের বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে বৈধ মোম প্রস্তুতকারকদের মধ্যে। এখন সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।









