অদ্বৈত মল্লবর্মণের সংগ্রাম, চিন্তা-ভাবনাকে সারা দেশের মানুষের কাছে উৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে: সাংসদ

অনলাইন ডেস্ক, ৩ জানুয়ারী ২০২৬: তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে নলছড় দশমীঘাট ময়দানে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী অদ্বৈত মল্লবর্মণ উৎসবের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। সভাপতিত্ব করেন নলছড় পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান রীনা দেবনাথ। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য অধুনা বাংলাদেশের তিতাস নদীর অববাহিকা থেকে এক সময় উদ্বাস্তু হয়ে এখানকার রুদিজলাকে কেন্দ্র করে নতুন জীবনের নতুন আশা খুঁজে পাওয়া জেলে সমাজের দুর্দশার ইতিহাস তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নদী কেন্দ্রীক এই মানব সভ্যতা গড়ে ওঠার পিছনে যে ইতিহাস রয়েছে সেটাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই অদ্বৈত মল্লবর্মণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণের সংগ্রাম, চিন্তা-ভাবনাকে সারা দেশের মানুষের কাছে উৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার নেতৃত্বে বর্তমান রাজ্য সরকার আত্মনির্ভর ত্রিপুরা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

তাছাড়া মহিলাদের স্বশক্তিকরণ করার জন্যও সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি কৃষকদের আত্মনির্ভর করার জন্য রাজ্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, রাজ্য সরকার তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে এই উৎসবকে রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

“তিতাস একটি নদীর নাম” এই উপন্যাসে জেলে সমাজের কৃষ্টি, সংস্কৃতিকে উৎসব ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে এছাড়া আলোচনা করেন বিধায়ক জীতেন্দ্র মজুমদার এবং আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নলছড় ব্লকের বিডিও সুরঞ্জিত সরকার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসসি সাব কমিটির চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দাস, সমাজসেবী উত্তম দাস, লোকজিৎ দেবনাথ প্রমুখ।

Recent Posts