অনলাইন ডেস্ক, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬: উৎসব মানেই মিলনমেলা। ল্যাম্পডা ওয়াথপ নোয়াতিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে জাতি-জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। জাতি-জনজাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষায় রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। গতকাল উদয়পুর গজী মেলার মাঠে ১০ তম রাজ্যভিত্তিক ল্যাম্পড়া ওয়াথপ উৎসবের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা একথা বলেন। মাতাবাড়ি ব্লক, ত্রিপুরা রাজ্য নোয়াতিয়া হদা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতবর্ষ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির দেশ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কৃষ্টি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সদা সচেষ্ট রয়েছে। একতাই শক্তি। সুখ-দুঃখে সকলে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকলেই ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়।
ত্রিপুরার জনজাতিদের রয়েছে এক গৌরবময় ও সমৃদ্ধির ইতিহাস। এই রাজ্যে জাতি-জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের ঐক্যভাবে বাস করাই হচ্ছে ত্রিপুরার প্রকৃত পরিচয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনজাতিদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একের পর এক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে একটি করে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্রকে সামনে রেখে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের শিখিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সকল অংশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শান্তি ও শৃঙ্খলাই হচ্ছে উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। বর্তমানে রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই উন্নয়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি শান্তি বিনষ্টকারীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করছে। উদয়পুরের টেপানিয়াতে একটি আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনজাতি সমাজপতিদের ভাতা দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও জনজাতিদের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলা ও মহকুমায় একজন করে টিসিএস অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মার্গদর্শনে রাজ্যে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলির সার্বিক উন্নয়নে একাধিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান রাজ্য সরকার জনজাতিসহ সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য পানীয় জল ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, এই মেলার মাধ্যমে নোয়াতিয়া সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়। রাজ্য সরকার নোয়াতিয়াসহ সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের শিক্ষা, কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক চর্চা ও সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, জনজাতি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নও চলছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, এমডিসি পদ্মলোচন ত্রিপুরা, গোমতী জেলার জেলাশাসক রিংকু ল্যাথের, মাতাবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান শিল্পী রানী দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিধায়ক তথা মেলা কমিটির চেয়ারম্যান অভিষেক দেবরায়। সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা নোয়াতিয়া সম্প্রদায়ের সমাজপতি উদয় সিংহ নোয়াতিয়া। মেলায় বিভিন্ন দপ্তরের ৯টি উন্নয়নমূলক স্টল খোলা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে এক বর্ণাঢ্য র্যালিরও আয়োজন করা হয়। এই উৎসব উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০০ জন পুরুষ ও মহিলার মধ্যে উপহার হিসেবে পোশাক তুলে দেওয়া হয়।









