প্রগতি ত্রিপুরা, ০৮ জুন, ২০২৬: সমাজকে প্রকৃত পথ দেখায় শিক্ষা। সরকারের সবকটি দপ্তরের মধ্যে শিক্ষা দপ্তর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যেমন বিরাট দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি রাজ্যে শিক্ষার প্রসারে ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জেলাশাসকদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বর্তমানে ত্রিপুরা প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। তাই শিক্ষাক্ষেত্রেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে এবং এই বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। আজ সচিবালয়ের ২ নম্বর কনফারেন্স হলে আয়োজিত বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা একথা বলেন।
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শুরুতে শিক্ষা দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে একটি সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে দপ্তরের সার্বিক কাজকর্ম ও বর্তমান পরিস্থিতি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলেধরেন। বৈঠকে ভার্চুয়ালী রাজ্যের ৮টি জেলার জেলাশাসকগণ এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকগণ অংশনেন। মুখ্যমন্ত্রী সহ শিক্ষা সচিব এবং শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকবৃন্দ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে জেলা শাসক ও শিক্ষা আধিকারিকদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ শোনেন। বৈঠকে জেলাশাসক ও আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা শাসকদের প্রতিদিন নিয়ম করে ক্ষেত্র পর্যায়ে গিয়ে স্কুলগুলির ওপর নজরদারি চালাতে হবে। নিজ নিজ জেলার বিদ্যালয়গুলি কিভাবে চলছে এবং সেখানে কোনও সমস্যা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক খতিয়ান নিতে জেলাশাসকদের প্রতি মাসে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও সুন্দর করতে নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন এই ধরনের ত্রিপাক্ষিক সমন্বয়ের ফলে স্থানীয় স্তরেই অনেক জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যালয়ে কোনও দিব্যাঙ্গ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে কিনা, কিংবা কারও শিক্ষা গ্রহণে কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে বিশেষ খোঁজখবর নিতে হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেতে হবে।
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিদ্যালয়ের নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাদানের গুণগত মান বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের পরিবেশ উন্নত করতে এবং দায়িত্বপূর্ণ শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনে ভালো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষাদপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে ছাড়াও দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনায় অংশ নেন।









