অনলাইন ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: উত্তর জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবায় রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম এবং মিরাক্কেল ফিট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পদ্মপুর আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্মগত বাঁকা পা বা ‘ক্লাবফুট’ আক্রান্ত শিশুদের সফলভাবে শনাক্তকরণ ও আধুনিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই তিনটি পরিবার উপকৃত হয়েছে। শিশুদের জন্মগতভাবে পায়ের পাতা ভিতরের দিকে বা নিচের দিকে বেঁকে থাকাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ক্লাবফুট’ বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে বড় অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই ত্রুটি সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
পদ্মপুর আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই আধুনিক চিকিৎসা প্রদান করছেন অস্থি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রাজা নাগ। সমগ্র প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম এর মেডিকেল অফিসার ডাঃ নীলাদ্রি শেখর চট্টোপাধ্যায় এবং মিরাক্কেল ফিট স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার জেলা কো-অর্ডিনেটর শ্যামশঙ্কর দেব। উত্তর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তিনজন শিশুকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশু কন্যার গত ২৭ডিসেম্বর ২০২৫ জন্ম হয়। সে পানিসাগর মহকুমার দক্ষিণ পদ্মবিল এলাকার বাসিন্দা। জন্মের পরই তার বাঁ পায়ে বাঁকাভাব লক্ষ্য করা যায়। সে পদ্মপুর আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অপর শিশুর গত ২১ অক্টোবর ২০২৫ জন্ম হয়। সে কদমতলা সংলগ্ন সরসপুর কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তার দুটি পা বাঁকা জন্মের মাত্র তিন দিনের মাথায় শনাক্ত করা হয় এবং গত ৫ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে তার নিয়মিত চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
দ্রুত শনাক্তকরণের ফলে তার পায়ের উন্নতির হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। এছাড়াও, অপর শিশুর গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ জন্ম হয়। সে দশদা ব্লকের গছিরাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। জন্মের অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। উত্তর জেলার ডিস্ট্রিক্ট আর্লি ইন্টারভেনশন সেন্টারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও নবজাতকের পা জন্মগতভাবে বাঁকা দেখা গেলে দেরি না করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কার্যক্রম দলের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে এখন আর কোনো শিশুকে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হবে না- এই লক্ষ্যেই নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।









