টাস্ক মনিটরিং সিস্টেম-এর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে প্রশাসনের সব স্তরকে আরও সমন্বিত, কঠোর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক, ৫ অগাস্ট,২০২৬: নেশা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে প্রশাসনের সব স্তরকে আরও সমন্বিত, কঠোর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে হবে।প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে ড্রাগস ও অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ স্থানগুলিতে পুলিশি নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করতে হবে। আজ সচিবালয়ের ২ নং কনফারেন্স হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত টাস্ক মনিটরিং সিস্টেম-এর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করার নির্দেশ দেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জিবি হাসপাতাল এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

পর্যটন শিল্পের বিকাশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে। তাই ছবিমুড়া, ঊনকোটি, ডুম্বুর, নীরমহলসহ রাজ্যের সব পর্যটন কেন্দ্রকে সর্বদা পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় রাখতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সহ জেলা প্রশাসনকে নিয়মিত ক্ষেত্র পরিদর্শন ও কার্যকর নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি। আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি এবং বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী জেলা শাসকদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, আগামী ১১ আগস্ট উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে রাজ্যস্তরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং এই জাতীয় কর্মসূচিকে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সফল করে তোলার আহ্বান জানান।

শিক্ষাক্ষেত্রের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিদ্যালয়গুলির উন্নয়নে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। তাই শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা যথা, নোটিশ বোর্ড হালনাগাদ,পরিকাঠামো এবং পাঠদানের মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি জেলা শাসকদের বিদ্যালয় পরিদর্শন আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণযোগ্য হবেনা।মুখ্যমন্ত্রী সবস্তরের অধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের সাথে নম্রতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। সহনশীল মনন নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।

একইসঙ্গে জেলা হাসপাতাল, সমাজকল্যাণ দপ্তর পরিচালিত বিভিন্ন হোম, ছাত্রাবাস, শিশু টিকাকরণ কর্মসূচি, গণবণ্টন ব্যবস্থা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিষেবা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন। জল জীবন মিশনের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে খোয়াই জেলার মতো জলসংকটপূর্ণ এলাকায় উদ্ভাবনী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও কৈলাশহর বিমানবন্দর চালুর অগ্রগতি সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও জনমুখী করার উপর গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংবেদনশীল ও নম্র আচরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা শাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বিক নজরদারি রেখে প্রতিটি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হবে। বৈঠকের শেষে তিনি রাজ্যের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কাজের প্রশংসা করে মানুষের কল্যাণে আরও নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সভার শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে টাস্ক মনিটরিং সিস্টেমের সার্বিক কার্যপ্রণালী মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনি বৈঠকের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব, অধিকর্তা এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ভার্চুয়ালি রাজ্যের আটটি জেলার জেলা শাসক, জেলা পুলিশ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকগণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

Recent Posts