অনলাইন ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: মানবকল্যাণে স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি অত্যন্ত মহৎ সেবা কাজ। এই মহান কাজে আরও বেশি করে যুব সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এর মাধ্যমে অসামাজিক চিন্তাভাবনার প্রবণতা দেখা দেবে না যুব সমাজের মধ্যে। পাশাপাশি রক্তদানের মধ্যে একটা মমত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। আজ আগরতলার বনমালীপুরস্থিত শ্রী শ্রী মহানাম অঙ্গনে নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) সাহা বলেন, সমাজের কল্যাণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে নিখিল ত্রিপুরা মহানাম সেবক সংঘ। সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কাজ করে এই সংস্থাটি। এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামাজিক কার্যক্রমের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আধ্যাত্মিক সচেতনতা ও মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এর পাশাপাশি গরীব মানুষের মধ্যে নিয়মিত খাদ্য ও রেশন সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছে এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। যুব প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পাঠ দিতে আরো সামনের সারিতে এগিয়ে আসতে হবে মহানাম সেবক সংঘকে। মানুষের মধ্যে সততা, দয়া, ক্ষমা ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এধরনের রক্তদান শিবিরের মতো সামাজিক কাজকর্ম করে সবাইকে একসূত্রে গাঁথার কাজ করছে মহানাম সংঘ। এতে ধর্মীয় প্রচারের পাশাপাশি মানবিক সেবাও করা হচ্ছে। এরফলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠছে। মনে রাখতে হবে মানুষ মানুষের জন্য। আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সনাতন ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে। ভারতবর্ষে এত বিদেশি শক্তির আক্রমনের পরেও সনাতন ধর্মের কারণে ভারতীয় সভ্যতার গৌরব অক্ষুণ্ন রয়েছে।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যুব প্রজন্মকে স্বেচ্ছা রক্তদানে আরো উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এতে তাদের মধ্যে অসামাজিক চিন্তাভাবনার প্রবণতা আসবে না। রক্তদানের মধ্যে একটা মমত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। মহানামব্রত ব্রহ্মচারীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই রক্তদানের আয়োজন করেছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি। ভারতীয় দর্শন ও সনাতন ধর্মে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি মানুষকে এগিয়ে চলার পথ দেখিয়েছেন। আর এধরনের সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা যায়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, নিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারম্যান রত্না দত্ত, মহানাম সেবক সংঘের কর্মকর্তা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।









