সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে পুলিশ ও প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করছে: পরিবহণ মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: প্রশাসনিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে যুক্ত সকলের দায়িত্ব দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতা করা। এই লক্ষ্যে সরকার পিএম রাহাত (ক্যাশলেস ট্রিটমেন্ট), হিট-এন্ড রান ক্যাম্পেইন সেশান এবং রাহ বীর (গুড সামারিটান) এই তিনটি প্রকল্পের সুবিধা চালু করেছে। আজ সোনারতরী অতিথিশালার কনফারেন্স হলে আয়োজিত পশ্চিম জেলাভিত্তিক ‘রোড সেইফটি অ্যাওয়ারন্যাস এন্ড সেনসিটাইজেশান’ প্রোগ্রামের উদ্বোধন করে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পগুলির সুবিধার কথা গ্রামীণ এলাকার মানুষ অনেকেই জানেন না। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়েই চাইছে আরও বেশি মানুষ এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পান।

পরিবহণমন্ত্রী শ্রী চৌধুরী বলেন, পিএম রাহাত প্রকল্পের পুরো নাম হচ্ছে ‘প্রধানমন্ত্রী রোড অ্যাক্সিডেন্ট ভিকটিমস হসপিটালাইজেশন অ্যান্ড অ্যাসিউর ট্রিটমেন্ট’। এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে নির্ধারিত হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় প্রকল্পটি হচ্ছে হিট-এন্ড রান প্রকল্প। এই প্রকল্পে পালিয়ে যাওয়া গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা এবং আহত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা করা হয়। তিনি বলেন, ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয় মোটর ভ্যাহিক্যাল অ্যাক্ট ১৯৮৮ এর ১৬৪ (বি) ধারা অনুসারে কেন্দ্রীয়স্তরে এই প্রকল্পের সূচনা করেছে। ২০২২ সালেরই ৪ এপ্রিল থেকে রাজ্যের সব জেলায় জেলাশাসকদের সভাপতিত্বে ৬ সদস্যের একটি জেলাস্তরীয় হিট এন্ড রান কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজ্যেও এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়।

তিনি বলেন, তৃতীয় প্রকল্পটি হল রাহ বীর (গুড সামারিটান) প্রকল্প। এই প্রকল্পে দুর্ঘটনাগ্রস্তকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এবং দ্রুত আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা পরিষেবার আওতায় যে নিয়ে আসবেন সেই সাহায্যকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার এবং রাহ বীর শংসাপত্র দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সাহায্যকারী ব্যক্তির সম্পূর্ণ আইনী সুরক্ষা থাকবে এবং এর ফলে কোন আইনী মামলায়ও পড়তে হবে না। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সাহায্য করা ও তাদের জীবন বঁচানোর লক্ষ্যেই সাধারণ নাগরিকদের সচেতন ও উৎসাহিত করার জন্য ২০২৬ এর ৩১ মার্চ থেকে রাজ্যে প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে। পূর্বে এই প্রকল্পটির নাম ছিল গুড সামারিটান। এতে মাত্র ৫০০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হতো। বর্তমানে এর পুরস্কার মূল্য ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু রাজ্যস্তরে নয়, জাতীয় স্তরেও প্রতিবছর ১০ জন রাহ বীরকে ১ লক্ষ টাকা করে পুরস্কার এবং রাহবীর শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি সকলকে এই পরিষেবার সুযোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবহণ, পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর এবং প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন যাতে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়।

অনুষ্ঠানে পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন, একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, একটি পরিবারকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। তাই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতাই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনারাণী সরকার। অনুষ্ঠানে আইজিপি (ল এন্ড অর্ডার) মঞ্চাক ইপ্পার সড়ক নিরাপত্তামূলক প্রকল্প বাস্তবায়ণে পুলিশ কর্মী ও অন্যান্য সামাজিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরিবহণ দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা অনুষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তার উদ্দেশ্য, প্রতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. বিশাল কুমার। এছাড়া সেমিনারের টেকনিক্যাল সেশানে পিএম রাহাত, হিট এন্ড রান এবং রাহ বীর এই তিনটি প্রকল্পগুলির পরিষেবা প্রদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন পরিবহণ কমিশনার সুব্রত চৌধুরী, আইপিএস এসপি ট্রাফিক কান্তা জাঙ্গির প্রমুখ। সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন জেলার তিনটি মহকুমার মহকুমা শাসকগণ, ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানগণ এবং সদস্য সদস্যাগণ, জিলা পরিষদের সদস্য সদস্যাগণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকগণ।

Recent Posts