জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রজ্ঞাভবনে সচেতনতামূলক আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ প্রজ্ঞাভবনের ৩নং হলে ১ দিনের সচেতনতামূলক আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রাণীসম্পদ দপ্তরের বিশেষ সচিব এস প্রভু। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাকরণ, নজরদারি ও জনসচেতনতার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তর ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতি বছর ভারতে প্রায় ৯১ লক্ষ প্রাণীর কামড়ের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে মানুষের মধ্যে র‍্যাবিস সংক্রমণের অধিকাংশই কুকুরের কামড়ের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, সারা দেশের সাথে ত্রিপুরায়ও এই র‍্যাবিস নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধেই নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ সালে রাজ্যের ২৫, ১১৯টি প্রাণীকে র‍্যাবিসের টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫-২৬ সালে টিকাকরণের সংখ্যা দেড়গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের উদ্যোগে প্রায় ৪০০০ কুকুরকে এই টিকাকরণ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এবিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব এবং অধিকর্তা ড. নীরজ কুমার চঞ্চল বলেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ত্রিপুরাকে সম্পূর্ণ র‍্যাবিস মুক্ত করতে হবে। এই লক্ষ্যেই আজকের এই সেমিনার আয়োজিত হয়েছে। তিনি সকলকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে সেমিনারের কারিগরি সেশনে প্রাণী চিকিৎসা দৃষ্টি কোন থেকে র‍্যাবিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আরকেনগর ভেটেরিনারি কলেজের অধ্যাপক ড. পরিমল রায়। ‘ডগস রাইটস ম্যানেজমেন্ট এন্ড হিউম্যান র‍্যাবিস পোস্ট এক্সপোজার প্রোফাইলাস্কিস’ এই বিষয়ে আলোচনা করেন এজিএমসি’র সহকারি অধ্যাপক ডা. অভিজিৎ সরকার।

‘রোল অব আরবান লোক্যাল বডিস ইন স্টেডস ম্যানেজমেন্ট এন্ড র‍্যাবিস প্রিভেনশান’ নিয়ে সেমিনারে আলোচনা করেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহ অধিকর্তা ডা. জগন্নাথ বণিক। ‘র‍্যাবিস এট দি ওয়াইল্ড লাইফ ডোমেস্টিক এনিম্যাল ইনটারফেস’ এই বিষয়ে সেমিনারে আলোচনা করেন প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহ অধিকর্তা ডা. রাজীব দাস। সেমিনার শেষে কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটলে কিভাবে দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে এই বিষয়ের উপর একটি অনুশীলনমূলক কার্যক্রম প্রদর্শন করা হয়। সব শেষে র‍্যাবিস প্রতিরোধমূলক একটি জনসচেতনতামূলক বার্তা পাঠ করা হয়। র‍্যাবিসের কারণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে কিভাবে আনা যায় এই নিয়ে একটি প্যানেল ডিসকাশন হয়।

Recent Posts