অনলাইন ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬: উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ পাওয়া রাজ্যবাসীর অধিকার। রাজ্যবাসীর কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান রাজ্য সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মহকুমা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং রেফারেল হাসপাতালগুলিতে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে।
আজ উদয়পুরের ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোমতী জেলা হাসপাতালের সম্প্রসারণ, ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতালের সম্প্রসারণ এবং পাবলিক হেলথ ইউনিটের শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। এই তিনটি প্রকল্প রূপায়ণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৯ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আগে মহকুমা হাসপাতালের সম্প্রসারণের ভূমিপূজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার সারা রাজ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ করছে। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরের এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। এবছর দুর্গাপূজার আগে এবং পরে প্রায় ২৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উদয়পুর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ শহর। রাজ্য সরকার আগরতলা, ধর্মনগর এবং উদয়পুরে স্যাটেলাইট টাউনশিপ গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, প্রসাদ প্রকল্পে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন। এরপর থেকে সারা দেশ থেকে পর্যটক এবং দর্শনার্থী আরও বেশি সংখ্যায় এখানে আসছেন। উদয়পুরেই একান্ন শক্তিপীঠের রেপ্লিকা গড়ে তোলা হচ্ছে।
উদয়পুরের তেপানিয়াতে আয়ুর্বেদিক কলেজ চালু করা হয়েছে। উদয়পুর শহরের সৌন্দর্যায়নের কাজও চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়ন, উন্নত নাগরিক পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং পর্যটন ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদয়পুর আগরতলার পর অদূর ভবিষ্যতে সবচেয়ে সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতাল সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ৪৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। গোমতী জেলা হাসপাতালের সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ১৪২ কোটি টাকা। পাবলিক হেলথ ইউনিট তৈরি করতে ব্যয় হবে ৬০ লক্ষ টাকা।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমবিবিএস, বিডিএস এবং নার্সিং পড়ার জন্য আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলা হাসপাতাল এবং এজিএমসিতে শয্যা সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। সারা দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে এজিএমসি বর্তমানে ১৩১ নম্বর স্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ১০টি সেরা হাসপাতালের মধ্যে এজিএমসি ও জিবিপি হাসপাতালকে জায়গা করে নিতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।
ইতিমধ্যেই বহিরাজ্যের হাসাপাতালগুলিতে রোগী রেফারের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য আগরতলায় আইএলএস হাসপাতালের পাশে আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী নিরাময় আরোগ্য যোজনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের কথা তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসব কাজের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথাই প্রতিফলিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অধিকারকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে চলেছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে রোগীরা আরও উন্নতমানের চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। বর্তমান সরকার ত্রিপুরাসুন্দরী মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট আন্তরিক। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার ফলেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে। ফলে রাজ্যের জনগণ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুফল পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জিলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, উদয়পুর পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন শীতল চন্দ্র মজুমদার, স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, জেলাশাসক রিংকু লাথের প্রমুখ।









