দুর্জয়নগরে নার্সিং কলেজ, নার্সিং স্কুল ও এএনএম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের উদ্বোধন, সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলছে: মুখ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের মৌলিক চাহিদা। প্রতিটি মানুষ সুস্থ থাকলেই সমাজও সুস্থ ও সুন্দর থাকে। তাই সরকার শহর ও প্রান্তিক এলাকার মানুষদের আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। আজ দুর্জয়নগরে আগরতলা গভর্নমেন্ট নার্সিং কলেজ, ড. বি আর আম্বেদকর নার্সিং স্কুল ও এএনএম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নবনির্মিত ত্রিতল ভবনের উদ্বোধন করে এবং নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। দুর্জয়নগরে একই ছাদের তলায় আগরতলা গভর্নমেন্ট নার্সিং কলেজ, বি আর আম্বেদকর নার্সিং স্কুল ও এএনএম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের নবনির্মিত ত্রিতল ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শহরের দূরবর্তী এলাকার শিশু, প্রবীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের প্রতিটি মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মান উন্নয়ন ও তার পরিষেবার পরিধি বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। রাজ্যে জেলা হাসপাতালগুলিতে রোগীদের জন্য শয্যা সংখ্যা অনেক বাড়ানো হয়েছে। রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল সহ প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওপিডি পরিষেবা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এক কথায় স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ওপিডি পরিষেবার এক আমূল পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নরসিংগড় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবনটি দ্রুত গড়ে তোলা হবে। রাজ্য সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মান উন্নয়ন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করে চলেছে। তিনি বলেন, রাজ্যের মানুষের স্বপ্ন ছিল স্বাস্থ্য সহ সমস্ত ক্ষেত্রে ভালো পরিষেবার সুযোগ পাওয়া। পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে রাজ্য সরকার মানুষের কল্যাণে সেই স্বপ্ন পূরণ করে চলেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে অতীতে নানা ঘাটতি ছিল। বর্তমানে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ, ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল, হোমিওপ্যাথিক কলেজ ও হাসপাতাল, আয়ুর্বেদিক কলেজ ও হাসপাতাল চালু করে সরকার পরিকল্পনা মাফিক সমস্ত কাজ বাস্তবায়ন করছে।

পাশাপাশি রাজ্যে চক্ষু চিকিৎসার আরও উন্নয়নে চালু করা হয়েছে চক্ষু চিকিৎসা হাসপাতালও। পাশাপাশি রাজ্যে বর্তমানে নার্সিং নিয়ে শিক্ষা গ্রহণের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে এমবিবিএস পড়ার আসন বেড়ে হয়েছে ৫৫০টি। তিনি বলেন, সঠিক চিকিৎসার জন্য সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেক্ষেত্রে আগে রাজ্যে তার প্রচুর ঘাটতি ছিল। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে অনেক বেশি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে।

রাজ্যে গত কয়েক বছরে ৩ লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি রোগীর স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনায় ১০০ শতাংশ রোগী পরিষেবা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ সরকার মানবতার সরকার। তাই রোগীদের পাশাপাশি রোগীদের সাথে আসা পরিজনদের জন্য জিবি হাসপাতালে বিনামূল্যে খাবার, রাত্রিকালীন থাকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে বলেন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে রাজ্যে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান অনেকটাই সহজ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক ডা. দিলীপ দাস ও কৃষ্ণধন দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন জন আরোগ্য সমিতির চেয়ারপার্সন শীলা দাস সেন।

Recent Posts

দুর্জয়নগরে নার্সিং কলেজ, নার্সিং স্কুল ও এএনএম ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের উদ্বোধন, সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলছে: মুখ্যমন্ত্রী