অনলাইন ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : কাঞ্চনপুর মহকুমার উরিছড়া খেলার মাঠে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ৩৪তম রাজ্যভিত্তিক হজাগিরি উৎসব। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রিয়াং জনজাতি অংশের মানুষ এই রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি নৃত্য, লোকসংস্কৃতি এবং বিভিন্ন জাতি ও জনজাতির মানুষের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভবরঞ্জন রিয়াং, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াং, এমডিসি শৈলেন্দ্র চন্দ্র নাথ, কাঞ্চনপুর মহকুমার মহকুমা শাসক শুভম তিত্তে, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উৎপলেন্দু দেবনাথ, ব্রু সোসিও কালচারাল অর্গানাইজেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক-সহ অন্যান্য সদস্য-সদস্যাগণ। প্রদীপ প্রজ্বলনের পর কয়েকশো শিল্পীর সম্মিলিত পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী হজাগিরি নৃত্যের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঞ্চার করে। মাঠজুড়ে দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উৎসাহ উৎসবের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে সমবায়মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিগণ রাজ্যভিত্তিক হজাগিরি উৎসবের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বিকাশ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের উৎসবের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি, ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন জাতি ও জনজাতির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তাঁরা তুলে ধরেন। উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পক্ষ থেকে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সরকারি পরিষেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রদর্শনী মণ্ডপ খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎসবে আগত দর্শনার্থীরা বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রু সোসিও কালচারাল অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক লালবাহাদুর রিয়াং। তিনি উৎসবে আগত অতিথি, শিল্পী ও দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান এবং এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবের সাফল্য কামনা করেন। দু’দিনব্যাপী এই উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজাগিরি নৃত্যদল অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি, রাজ্যের অন্যান্য জাতি ও জনজাতির শিল্পীরাও তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-সংগীত পরিবেশন করবেন। রাজ্যের বাইরে থেকে আগত বোড়ো ও বিহু নৃত্যদলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে রিয়াং জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল দুপুরে এই প্রতিযোগিতাগুলি অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে রিয়াং জনজাতির ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, ক্রীড়া-সংস্কৃতি এবং সামাজিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামীকালও সারারাত ব্যাপী পরিবেশিত হবে হজাগিরি নৃত্য।









