জানা গিয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) মডেলের বিমানটি কার্যত ক্ষেপণাস্ত্রের মতো দ্রুতগতিতে আছড়ে পড়ে মূল সড়কের কাছেই। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আমেরিকার ফ্লোরিডায় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ল যাত্রীবাহী বিমান (Florida Plane Crash)। রবিবার দুপুরে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। জানা গিয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) মডেলের বিমানটি দ্রুতগতিতে আছড়ে পড়ে মূল সড়কের কাছে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে প্রবল বিস্ফোরণ। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দুর্ঘটনার জেরে আশপাশের একাধিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার পাম বিচ কাউন্টির ক্রিসহ্যাভেন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিসর্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সেটি। দুপুর ১টা নাগাদ প্রায় ৮ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকার সময় আচমকাই বিমানটি দ্রুতগতিতে নীচের দিকে নামতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগে একটি গাছে ধাক্কা মারে বিমানটি। এরপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সোজা রাস্তায় ভেঙে পড়ে। তীব্র অভিঘাতে রাস্তায় তৈরি হয় বড় গর্ত। মুহূর্তের মধ্যে বিস্ফোরণ এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই দুর্ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয় পথচলতি গাড়ির ক্যামেরায়। জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশ মেঘলা ছিল, সেই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল। বাতাস বইছিল ১৫ থেকে ২৫ মাইল গতিতে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, খারাপ আবহাওয়ার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিলিটারি ট্রেইলের সমস্ত লেন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষকে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)। তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে মার্কিন পরিবহন দপ্তর।








