জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়াম থেকে পিপরাহওয়ার পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন তাওয়াংয়ে নিয়ে আসা হয়েছে
৩১ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তাওয়াং, বোমডিলা ও নামসাইয়ে পর্যায়ক্রমে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে
ভারতের বৌদ্ধ সভ্যতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে এই উদ্যোগ
নয়াদিল্লী, ২ নভেম্বর ২০২৬: নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়াম থেকে আনা শাক্যমুনি বুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিচিহ্ন ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু আনুষ্ঠানিকভাবে তাওয়াংয়ে গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে অরুণাচল প্রদেশে ভারতের বৌদ্ধ ঐতিহ্যবিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীর সূচনা হয়। ঐতিহাসিক গাদেন নামগিয়াল লাতসে (তাওয়াং মঠে) ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলিকে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, বিশিষ্ট বৌদ্ধ ভিক্ষু, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং ভক্তরা।
ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের উদ্যোগে অরুণাচল প্রদেশ সরকার, ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন (আইবিসি) এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ মানুষকে বৌদ্ধ ধর্মের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—তাওয়াং, বোমডিলা এবং নামসাইয়ে এই পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ করে দেবে এই প্রদর্শনী।
তাওয়াংয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু, বিশিষ্ট বৌদ্ধ ভিক্ষু, ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশনের প্রতিনিধিরা, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং ভক্তরা।
এই উপলক্ষে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অরুণাচল প্রদেশে ভগবান বুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিচিহ্নের প্রদর্শনী আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রদর্শনীকে গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর পিপরাহওয়ার পবিত্র স্মৃতিচিহ্নের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভারতের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং ভগবান বুদ্ধের সর্বজনীন শিক্ষার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘লহাবাব দুচেন’-এর সঙ্গে এই প্রদর্শনীর সময় মিলে যাওয়ায় এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে। উল্লেখ্য, স্বর্গলোক থেকে ভগবান বুদ্ধের মর্ত্যে প্রত্যাবর্তনকে স্মরণ করেই এই উৎসব পালিত হয়। পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলি উত্তরপ্রদেশের পিপরাহওয়া থেকে আনা হয়েছে। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি প্রাচীন কপিলাবস্তু এবং ভগবান বুদ্ধের শাক্য বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্তমানে নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত এই স্মৃতিচিহ্নগুলি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রদর্শনীর পাশাপাশি ‘আনআর্থিং দ্য সেক্রেড পিপরাহওয়া: দ্য স্টোরি অফ দ্য হোলি বুদ্ধ রেলিকস অ্যান্ড দেয়ার ডিসকভারি’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হবে। এতে পিপরাহওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের ইতিহাস, বুদ্ধের পবিত্র স্মৃতিচিহ্নের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের তাৎপর্য এবং পিপরাহওয়ার ঐতিহ্যের যাত্রাপথ তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি, কীভাবে এই ঐতিহ্য পুনরায় ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সেই বিষয়টিও প্রদর্শিত হবে।
ইন্টারন্যাশনাল বুদ্ধিস্ট কনফেডারেশন অরুণাচল প্রদেশ সরকারের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর তাওয়াংয়ের কালাওয়াংপো কনভেনশন হলে ‘বৌদ্ধধর্ম: হিমালয় অঞ্চল ও তার বাইরে বিস্তার’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করবে।
১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত তাওয়াং মঠে এই প্রদর্শনী চলবে। এরপর ৮ থেকে ১৩ নভেম্বর বোমডিলার টিজিএল মঠ (লোয়ার গোম্পা) এবং ১৪ থেকে ২০ নভেম্বর নামসাইয়ের গোল্ডেন প্যাগোডায় প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলি পুনরায় নয়াদিল্লির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এই প্রদর্শনী উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে দেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যকে আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পাশাপাশি, ভগবান বুদ্ধের সর্বজনীন শিক্ষা—শান্তি, করুণা, অহিংসা ও সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত সরকার দেশের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।








