সমবায়মন্ত্রীর সভাপতিত্বে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক, ৩১ আগস্ট, ২০২৪: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে গতকাল সাম্প্রতিক বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। বৈঠকে জেলাশাসক ও সমাহর্তা স্মিতা মল সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, মাইলাফ্লু মগ, দীপঙ্কর সেন, অশোক মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক সুব্রত রিয়াং, অতিরিক্ত জেলাশাসক (পিপি) হেমন্ত দেববর্মা, পুলিশ সুপার অশোক কুমার সিনহা, তিন মহকুমার মহকুমা শাসক, সমস্ত ব্লকের বিডিও এবং বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকগণ।

বৈঠকে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানীয়জল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের কাজ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ত্রাণ কার্যে যাতে কোনও ধরনের অসুবিধা না হয় এবং ক্ষতিপূরণ যেন সঠিকভাবে সকলের কাছে পৌঁছায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সকলের সহযোগিতায় এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠা সম্ভব বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী রাস্তাঘাট আগামী ৭ দিনের মধ্যে চলাচলের যোগ্য করা, বন্যা আক্রান্ত বাড়িঘরে ও ত্রাণ শিবিরগুলিতে বেশি করে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো, পানীয়জলে হ্যালোজেন ট্যাবলেট ব্যবহার করা, যাদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট হয়ে গেছে তারা যেন সহজে সেই নথিপত্র পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করা ইত্যাদি বিষয়ে প্রস্তাব রাখেন। তাছাড়া বিধায়কগণ বন্যা উত্তর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার জন্য বিভিন্ন গঠনমূলক প্রস্তাব রাখেন।

সভায় পূর্ত (আর অ্যান্ড বি), গ্রামোন্নয়ন, বিদ্যুৎ, পানীয়জল, জলসম্পদ, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, প্রাণীসম্পদ, বন, শিক্ষা এবং সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিকগণ তাদের ক্ষয়ক্ষতি ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় জেলাশাসক কার্যালয়ের বিনোদন সংস্থার পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।