মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় দুর্ঘটনায় ও জলে ডুবে মৃতদের পরিবারবর্গকে আর্থিক সহায়তা

অনলাইন ডেস্ক,  ১১ জুন, ২০২৫: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা আজ তাঁর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচির ৪৫তম পর্বে সম্প্রতি পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার বিভিন্ন জায়গায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ও জলে ডুবে শিশু সহ যে কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে তাদের পরিবারবর্গের সদস্যদের সাথে মিলিত হয়ে গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি মৃত প্রত্যেক ব্যক্তির উপস্থিত পরিবারবর্গের হাতে আর্থিক সহায়তা হিসাবে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এই সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সিধাই রামসাধু পাড়ার শিশু পিয়ালী দেববর্মা, প্রিয়াঙ্কা দেববর্মা, প্রতাপগড় ঋষি কলোনির শিশু অঙ্কুশ ঋষিদাস, জিরানীয়া আইএস, অফিস এলাকার মহিন্দ্র সিং, মজলিশপুর শচীন্দ্র নগর কলোনির তন্ময় দেবনাথ, মজলিশপুর ব্রজনগরের প্রসেনজিৎ দেবনাথ এবং উজান অভয়নগরের লিটন সাহা।

তাছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থেকে আসা সমস্যা পীড়িতদের সঙ্গে চিকিৎসা, জমি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে তাদের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান ও লাঘব করার চেষ্টা করেন। তেলিয়ামুড়ার অত্যন্ত দুঃস্থ পরিবারের নবীন রায় চৌধুরী চোখের অসুস্থতা নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে সে চোখের জটিল রোগে আক্রান্ত। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তার চিকিৎসা করা কষ্টকর হচ্ছে।

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিকিৎসায় সাহায্যের আর্জি জানালে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন। চিকিৎসার সাহায্যের জন্য এসেছিলেন রেশম বাগান চন্দ্রপুরের বিজয়া ভট্টাচার্য্য, বিলোনীয়া উত্তর শ্রীরামপুরের ক্ষিতিশ চন্দ্র দাস সহ আরও অনেকে। প্রত্যেকেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা জানান।

সমস্যার যে যে ক্ষেত্রে যে রকম সমাধান প্রয়োজন সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহায়তার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে উপস্থিত জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারকে মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য নির্দেশ দেন। তাছাড়াও এদিন কামালঘাটের নমিতা মুন্ডা মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে তার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আশ্বস্ত হন।

আজকের মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. পি কে চক্রবর্তী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের সচিব তাপস রায়, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডা. তপন মজুমদার, জিবিপি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. শঙ্কর চক্রবর্তী, আইজিএম হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. দেবাশ্রি দেববর্মা, অটল বিহারী রিজিওন্যাল ক্যান্সার হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. এস দেববর্মা সহ প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন।