।। অনুপম পাল।।
অনলাইন ডেস্ক, ১৩ জুন, ২০২৫: বিলোনীয়ার জেল রোডের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী তাঁর বাড়ির ছাদে বসিয়েছেন ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রুফটপ সোলার প্ল্যান্ট। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনায় এই সোলার প্ল্যান্ট বসাতে তিনি ৮৫,৮০০ টাকা ভর্তুকীও পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই সোলার প্ল্যান্ট সুব্রতবাবুর ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছে। এখন তাঁকে আর আগের মত প্রতি মাসে বিদ্যুৎ দপ্তরকে বিদ্যুতের বিল দিতে হয় না। অনগ্রিড ব্যবস্থায় নিজের ব্যবহারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে উপার্জনও করছেন।
প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনায় কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রতিটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের রাজ্যেও অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক মানুষ এই প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করছে। শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তীও তাদের মধ্যে একজন। সুব্রতবাবুর সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন অনেকেই। যেমন-অমিতা বৈদ্য ভৌমিক, অপর্ণা বৈদ্যরা ২ কিলোওয়াট সোলার প্ল্যান্ট বসিয়েছেন টিনের চালে।
শালটিলার অজয় ভূষণ সেন, বিশ্বজিৎ মল্লিক, বগাফার পেনশনার কল্পনা দেবনাথ, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মচারি জগন্নাথ দেবনাথ, সাড়াসীমার উৎপল সরকার এবং দক্ষিণ জোলাইবাড়ির দীপালি দত্ত এই প্রকল্পের সুযোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে। প্রত্যেকেই ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্ল্যান্ট বসিয়েছেন বাড়ির ছাদে। ভর্তুকী পেয়েছেন ৬৬,০০০ টাকা করে। বর্তমানে তাদের আগের মত বিদ্যুতের বিল দিতে হচ্ছে না। তাদের সোলার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ তারা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন। এছাড়া অপর্ণা দে বৈদ্য, সেপাল সেন-এর মতো আরও বহু পরিবার এখন এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করছেন।
তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে সাতমুড়ার বাসিন্দা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক কৌশিক বৈদ্যের মত আরও অনেকে ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে নিজ বাড়িতে সোলার প্ল্যান্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সম্প্রতি বিলোনীয়ার রাজনগর বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত এক শিবিরে মোট ৫৮ জন ব্যক্তি এই যোজনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য আবেদন করেছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন কৃষক, রাবার চাষী, অটোরিক্সা চালক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এই সোলার প্ল্যান্ট অনায়াসেই বসানো যায় বাড়ির ছাদ, টিনের চাল বা উঠোনের খালি জায়গায়।
ফলে শহর বা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও সহজেই এই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। এই প্রকল্পে ১ কিলোওয়াট সোলার প্ল্যান্ট বসাতে ব্যয় হয় ৬৫,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা। যেখানে সরকার ভর্তুকী দেয় ৩৩,০০০ টাকা। দুই কিলোওয়াট সোলার প্ল্যান্ট বসাতে ব্যয় হয় ১,৩০,০০০ থেকে ১,৫৫,০০০ টাকা এবং ভর্তুকী রয়েছে ৬৬,০০০ টাকা। অন্যদিকে ৩ কিলোওয়াট প্ল্যান্ট স্থাপনে ব্যয় হয় ১,৯০,০০০ টাকা থেকে ২,২০,০০০ টাকা যার জন্য সরকারি ভর্তুকী রয়েছে ৮৫,৮০০ টাকা। বাড়িঘরে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত সোলার প্ল্যান্ট বসাতে পারবেন।
সর্বোচ্চ ভর্তুকী ৮৫,৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে অনলাইন কিংবা রেজিস্ট্রিকৃত সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করে এর সুবিধা নেওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলিকে আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী করা, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো সহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা দূর করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যজুড়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে। শুধু বিদ্যুৎ বিল কমানো নয়, এটি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও স্বনির্ভরতা গড়ার এক দৃঢ় পদক্ষেপ। সূর্য রশ্মি ব্যবহার করে নিজের ঘর ও পরিবারকে আলোকিত করার এ এক অনন্য পদক্ষেপ।









