অনলাইন ডেস্ক, ২৩ জুন, ২০২৫: সরকারি দপ্তরগুলির সাফল্য নির্ভর করবে কোনও একটি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা কত শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলো তার উপর। এই কাজে প্রতিটি দপ্তরকে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য সবার আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পেচারথল ব্লকের নবিনছড়া কমিউনিটি হলে আজ ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযানের সূচনা করে একথা বলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা। অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে কমিউনিটি হল প্রাঙ্গণে একটি প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা আরও বলেন, জুন মাসে পক্ষকালব্যাপী এই অভিযান ঊনকোটি জেলার ২১টি জনজাতি অধ্যুষিত গ্রামে আয়োজিত হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা জনজাতিদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি এ সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা। সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন সুবিধা পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য কাউকে যাতে সমস্যায় পড়তে না হয় সেজন্য এই অভিযানে গ্রামগুলিতে প্রশাসনিক শিবির করা হচ্ছে।
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সমাজের অন্তিম মানুষের কথা চিন্তা করে বহু প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া জনগণের অধিকার। উপযুক্ত মানুষ যাতে প্রকল্পের সুবিধা পায় তারজন্য সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন এম.ডি.সি. বিমল চাকমা, মহকুমা শাসক এন, এস, চাকমা, ডি.এফ.ও. কৃষ্ণ গোপাল রায়। সভাপতিত্ব করেন পেঁচারথল বি.এ.সি.-র চেয়ারম্যান সজল চাকমা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বি.ডি.ও. সাগর দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কার্যালয়ের সহঅধিকর্তা বিশ্বজিৎ দাস, সমাজসেবী রাজীব চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী সান্তনা চাকমা স্বাবলম্বন প্রকল্পে চারজন সুবিধাভোগীকে ব্যাটারিচালিত অটো প্রদান করেন।
মৎস্য দপ্তর থেকে দু’জন মৎস্য ব্যবসায়ীকে আইস বক্স, দু’জনকে মাছ ধরার জাল প্রদান করেন। ত্রিপুরা গ্রামীণ আজীবিকা মিশন থেকে দু’টি স্বসহায়ক দলকে মোট ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লোনের চেক প্রদান করা হয়। প্রশাসনিক শিবিরে মহকুমা প্রশাসন থেকে ১২৩টি এস.টি., ১০৫টি পি.আর.টি.সি শংসাপত্রের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়। আয়ের শংসাপত্র দেওয়া হয় ১৬০টি। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ৪০ জনের চিকিৎসা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।
এছাড়া আয়ুষ্মান কার্ডের জন্য ২০টি আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়। প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর থেকে ৪৮টি গৃহপালিত পাখি ও ৯৪টি গৃহপালিত পশুর চিকিৎসা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রাণীপালকদের প্রদান করা হয়। এতে ১৭টি প্রাণীপালক পরিবার উপকৃত হয়। নতুন রেশন কার্ড দেওয়া হয় ২৯টি পরিবারকে। শিবিরে নবিনছড়া ও সোনারাম ভিলেজের মোট ১২৪টি পরিবারে আরও.আর দেওয়া হয়।









