সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সব দিক দিয়ে মানুষের উন্নয়ন করে রাজ্যকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ২৭ আগস্ট, ২০২৫: একটি রাজ্যকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চিন্তা ভাবনা নিয়েই সেই রাজ্যের গ্রামস্তর থেকে নগরস্তর পর্যন্ত একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক পরিকাঠামো তৈরি হয়। রাজ্য অর্থ কমিশন তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। আজ প্রজ্ঞাভবনের ১ নং হলে রাজ্যের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপুরা রাজ্য ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের বিষয়বস্তু নিয়ে আয়োজিত একদিনের সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় একথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ অর্থ কমিশন রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করছে। পঞ্চম অর্থ কমিশনের মাধ্যমেও বর্তমান সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করেছে। আগামীদিনে ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকার জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, সব দিক দিয়ে মানুষের উন্নয়ন করে রাজ্যকে দেশের মধ্যে আর্থিকভাবে এক শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, প্রত্যেক জেলার গ্রামীণস্তর থেকে নগরস্তর পর্যন্ত উন্নয়নের জন্য যথোচিত প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হবে। কোনও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি যেন থেমে না থাকে সেই দিকে সকলের নজর রাখতে হবে। রাজ্যের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত যাতে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছে দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যেই আমাদের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেমিনারে পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে রাজ্যের প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। এই আলোচনাচক্র খুবই সময় উপযোগী।

তিনি বিগতদিনের অর্থ কমিশনগুলির সফলতা ও অসফলতার দিকগুলি নিয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে নাগরিক অধিকারের কথা যেমন বলা হয়েছে তেমনি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের কথাও বলা আছে। তাই প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলিও সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তিনি সকলকে পাহাড় ও সমতলের মধ্যে একটি সংযোগ সেতু তৈরি করে কাজ করতে বলেন। সঠিক সময়ে স্বচ্ছতার সাথে সঠিক কাজটি করতে হবে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং প্রতিটি কাজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মানুষকে অবহিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশন সুষ্ঠুভাবে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ধলাই জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, জিরানীয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রীতম দেবনাথ, পানিসাগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাস, তেলিয়ামুড়া বিএ.সি. চেয়ারম্যান বনলাল রাঙ্ঙ্খল, কুমারঘাট পুরপরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস, অমরপুর নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন বিকাশ সাহা, অমরপুর থাকছড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লতা দে এবং নলছড় কেমতলি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান প্রদীপ দাস।

অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ অর্থ কমিশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অভিষেক সিং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের সদস্য সচিব আকিঞ্চন সরকার। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন নগর উন্নয়ন দপ্তরের অধিকর্তা মেঘা জৈন। রাজ্যভিত্তিক এই সেমিনারে রাজ্যের প্রতিটি জিলা পরিষদের সভাধিপতিগণ, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানগণ এবং বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের গ্রাম প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।