তেলিয়ামুড়ার বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুখ্য সচেতক

অনলাইন ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬: তেলিয়ামুড়া ব্লকের অন্তর্গত বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতে আজ একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন ও সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন পঞ্চায়েত লার্নিং সেন্টার, বিবেকানন্দ পাঠশালা, গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্লাড গ্রুপ কার্ড বিতরণ, বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ কর্মসূচির সূচনা এবং বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তির আবরণ উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা বিধানসভার সরকারি মুখ্য সচেতক বিধায়ক কল্যাণী সাহা রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জিলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেলিয়ামুড়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান দীপা দেব, তেলিয়ামুড়া পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান নির্মল সূত্রধর এবং তেলিয়ামুড়া পুর পরিষদের কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট সমাজসেবী অচিন্ত্য ভট্টাচার্য।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার জেলা শাসক রজত পন্থ, তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহকুমা শাসক অপূর্ব কৃষ্ণ চক্রবর্তী এবং তেলিয়ামুড়া তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের বরিষ্ঠ তথ্য আধিকারিক দুলাল দেববর্মা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কল্পনা দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তেলিয়ামুড়া ব্লকের বিডিও বিপ্লব আচার্য। বৃক্ষে জল সিঞ্চনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকারি মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায় বলেন, প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের। বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতে আজ যে উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হয়েছে তা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি পঞ্চায়েতটিকে মডেল গ্রাম পঞ্চায়েত হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সমৃদ্ধি যোজনার মাধ্যমে এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে। ব্লাড গ্রুপ কার্ড বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জরুরি মুহূর্তে রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে দ্রুত জীবন রক্ষা সম্ভব। পঞ্চায়েত লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রামবাসীরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কোর্স ও ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হওয়ায় তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। বিবেকানন্দ পাঠশালার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সহ-সভাধিপতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দাস বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং অন্যান্য পঞ্চায়েতও তা অনুসরণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ভাইস চেয়ারম্যান নির্মল সূত্রধর জানান, বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতকে তেলিয়ামুড়া আরডি ব্লকের মধ্যে মডেল পঞ্চায়েত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে পঞ্চায়েত এলাকার অধিকাংশ মানুষের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় সম্পন্ন হয়েছে এবং অন্যান্য পঞ্চায়েতেও শীঘ্রই এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ করা হবে। জেলা শাসক রজত পন্থ বলেন, দেশ ও সমাজের উন্নতির মূল চাবিকাঠি গ্রাম উন্নয়ন। সম্মিলিত উদ্যোগে বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েত আগামী দিনে দেশের অন্যতম সেরা পঞ্চায়েত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিন খোয়াই জেলার স্বচ্ছ ভারত মিশনের ম্যাসকট ‘নির্মল মোতি’-কে উপস্থিত সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং বিবেকানন্দ পাঠশালা ও পঞ্চায়েত লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে আইএইচএইচএল ও পিএমএওয়াই প্রকল্পের সেরা সুবিধাভোগীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া আবর্জনা সংগ্রহ কর্মসূচির জন্য নিযুক্ত চারজন গ্রামবাসীকেও সম্মাননা জানানো হয়। গ্রাম প্রধান ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সরকারি সহায়তা ছাড়াই নির্মিত বিবেকানন্দের মর্মর মূর্তি নির্মাতাকেও বিশেষভাবে সংবর্ধিত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে তেলিয়ামুড়া তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য পঞ্চায়েত লার্নিং সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।